সহনশীলতা অর্থ হচ্ছে নির্মম বা বিরক্তিকর অনুভূতি দমন করার সক্ষমতা বা ইচ্ছা। সহনশীলতা দ্বারা শান্ত ও অটল অধ্যবসায়ও বোঝায়। সেই ব্যক্তিকেই আমরা সহনশীল বলি যিনি প্ররোচনা, উসকানি, বিরক্তি, দুর্ঘটনা, বিলম্ব, কষ্টকর পরিস্থিতি, দুর্ভোগ, ব্যথা-বেদনা ইত্যাদি পরিস্থিতি সহ্য করতে পারেন। তিনি এগুলো সহ্য করতে পারেন সংযম ও ধৈর্য সহকারে।
আমরা জীবনে যা-কিছু করি প্রায় সবকিছুর জন্যই সহনশীলতা প্রয়োজন। আমরা প্রায়ই কোনো এক স্থানে রওনা দিয়ে যানজটে আটকা পড়ে যাই, ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে বা কোনো জায়গায় যাওয়ার টিকেট কাটার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয়। এসব স্থানে রাগারাগি বা চিৎকার করলেও কোনো লাভ হয় না। সেখানে সহনশীল মনোভাব নিয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো গতি থাকে না।
সহনশীলতা সম্পর্কে পবিত্র বাইবেলের শিক্ষা
সাধু পল বলেন: "আমরা যা দেখতে পাই না, তার আশা যখন করি, তখন সহিষ্ণুতার সঙ্গেই তার জন্যে প্রতীক্ষা করে থাকি” (রোমীয় ৮:২৫)।
সাধু যাকোব বলেন: "মনে রেখো, যাঁরা নিষ্ঠাবান হয়ে থেকেছেন, তাঁদেরই আমরা ধন্য বলে থাকি। যোবের সেই নিষ্ঠতার কথা তোমরা তো শুনেছ; আর এ-ও দেখেছ যে, প্রভু এ ব্যাপারে শেষে কী করেছিলেন। তাঁর তো তা করারই কথা: প্রভু যে দয়াময়, করুণানিধান!" (যাকোব ৫:১১)।
সাধু যাকোব যোবের উদাহরণ দিয়েছেন। আমরা জানি যোব তাঁর সব সহায় সম্পত্তি, ছেলেমেয়ে, যত পশুসম্পদ, এমনকি তাঁর সব অর্থকড়িও হারিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও বন্ধুবান্ধবেরা এসে তাঁকে নানারকম অসৎ উপদেশ দিয়েছেন। এধরনের সমস্ত পরীক্ষায় যোব উত্তীর্ণ হয়েছেন কারণ তিনি ঈশ্বরকে পরিত্যাগ করে কোনোরকম পাপ করতে চাননি। যোবের গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এত কিছু ঘটা সত্ত্বেও যোব এমন কিছুই করলেন না, যাতে পাপ হয়। ঈশ্বরের প্রতি নির্বোধের মতো কোনো অভিযোগও করলেন না তিনি" (যোব ১:২২)। যোবের স্ত্রী পরামর্শ দিয়েছিলেন, যোব যেন ঈশ্বরকে ত্যাগ করেন। তাই যোব স্ত্রীকে বলেছিলেন, "নির্বোধ মেয়েরা যেমন কথা বলে, তুমি তো সেইরকম কথা-ই বলছ। ঈশ্বরের কাছ থেকে আমরা যেমন সুখ গ্রহণ করে থাকি, তেমনি দুঃখও কি গ্রহণ করব না?" (যোব ২:১০)।
সাধু পিতর বলেন: "আর তাই তো তোমাদের মনে এত আনন্দ, যদিও এখন কিছুকালের জন্য তোমাদের নানা পরীক্ষায় দুঃখকষ্টও পেতে হচ্ছে, যাতে ঈশ্বরের ওপর তোমাদের বিশ্বাস যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়; এমন বিশ্বাস, সে তো নশ্বর স্বর্ণের চেয়ে অনেক মূল্যবান-যদিও স্বর্ণটা আগুনে যাচাই করা হয়! আর এমন বিশ্বাসই যীশু খ্রিষ্টের সেই মহা আত্মপ্রকাশের দিনে তোমাদের প্রশংসা, সম্মান ও মহিমার কারণ হয়ে দাঁড়াবে" (১পিতর
১:৬-৭)।
প্রবচন গ্রন্থে বলা হয়েছে: "অন্যায়ের প্রতিশোধ নেব, এমন কথা কখনো বলো না; তুমি বরং ঈশ্বরের ওপরেই আস্থা রাখো, তোমাকে বাঁচাবেন তিনি" (প্রবচন/হিতোপদেশ ২০:২২)।
সাধু পল বলেন: "সমস্ত নিষ্ঠা, সমস্ত আশ্বাসের উৎস স্বয়ং পরমেশ্বর তোমাদের এই বর প্রদান করুন, খ্রীষ্ট যীশুর আদর্শ অনুসারে তোমরা যেন পরস্পর একপ্রাণ হতে পার" (রোমীয় ১৫:৫)। তিনি আরও বলেন, "শুধু তাই নয়: আমরা তো আমাদের দুঃখ-দুর্ভোগ নিয়েও গর্ব করে থাকি; কেন না আমরা জানি যে, দুঃখ-দুর্ভোগ থেকে জাগে নিষ্ঠা আর নিষ্ঠা থেকে চারিত্রিক যোগ্যতা; আর চারিত্রিক যোগ্যতা থেকে অন্তরে জেগে ওঠে আশা"
(রোমীয় ৫:৩-৪)।
সাধু যাকোব বলেন: "শোন, ভাই, প্রভু যতদিন না-আসেন, ততদিন তোমরা বরং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা চাষির কথা একবার ভেবে দেখ, সে কেমন করে জমির মূল্যবান ফসলের প্রতীক্ষায় বসে থাকে, তার জন্যে কেমন ধৈর্য ধরেই সে অপেক্ষা করে, যতক্ষণ-না নেমে আসে প্রথম আর শেষ বর্ষার জল" (যাকোব ৫:৭)।
Read more