সুমন, রাজন, মোহন তিন বন্ধু। বন্ধুরা মিলে কক্সবাজার বেড়াতে যায়। সুমন রাত ৮ টায় একাকী হোটেল থেকে বেরিয়ে সামনের রাস্তায় পায়চারী করছিল। হঠাৎ তার চোখে পড়ে একটি মেয়েকে টিজ করা হচ্ছে। তার মধ্যে ক্রোধ সৃষ্টি হয় এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেয়েটিকে রক্ষা করে। মেয়েটি নিরাপদে হোটেলে ফিরে যায়। খবর পেয়ে রাজন ও মোহন দৌড়ে এসে দেখে সুমন সেখানে বসে আছে। তার বুক ধড়ফড় করছে এবং শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। বন্ধুরা তাকে নিকটস্থ ডাক্তারখানায় নিয়ে যায়। তিনি (ডাক্তার) স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সুমনকে বিশ্রাম নিতে বলেন। এক ঘণ্টা পর সুমন স্বাভাবিক হলে তারা হোটেলে ফিরে আসে।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

যে তন্ত্রের মাধ্যমে প্রাণী তার বাইরের পরিবেশের সাথে সমন্বয় সাধন এবং অঙ্গসংস্থানিক কার্যকলাপকে সুনিয়ন্ত্রিত করে সুসংবদ্ধ জীবনযাপনে সক্ষম হয় তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।

উত্তরঃ

অনালি গ্রন্থির ক্ষরণ সরাসরি রক্তস্রোতে মিশে আমাদের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে তাই এদেরকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয়

আমাদের দেহের অভ্যন্তরে যে সব গ্রন্থির ক্ষরণ কোনো নালির ভেতর দিয়ে না গিয়ে সরাসরি রক্তস্রোতে মিশে আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেসব প্রন্থিকে অন্তক্ষরা বা অনালি প্রন্থি বলে। যেমন- পিটুইটারি, থাইরয়েড গ্রন্থি ইত্যাদি।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে সুমনের শারীরিক পরিবর্তনের মূলে। প্রভাব বিস্তারকারী স্নায়ুতন্ত্র হলো সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র (Sympathetic Nervous System)
বিভাগের স্নায়ুগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এরা হলো উত্তেজক (Excitatory)। মেরুদণ্ড থেকে বের হয়ে সমবেদী স্নায়ুসমূহ তৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, গ্রন্থি, অস্ত্র, পেশি প্রভৃতিতে গিয়ে পৌঁছে। সমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কাজ হচ্ছে, জীবকে জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করা। এটি দেহ শক্তিকে পরিচালনা করে কাজে লাগিয়ে থাকে। এর কার্যাবলি হলো-
১. শ্বাস যন্ত্রের ক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়া।
২. পরিপাক ক্রিয়ার পথে বাধার সৃষ্টি করা।
৩. রক্তের চাপ বাড়িয়ে দেয়া।
৪. ঘর্মের মাধ্যমে শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দেয়া।
৫. এর সক্রিয়তার জন্য এড্রিনালিন হরমোন নিঃসৃত হয়, ফলে যকৃত থেকে রক্তে বেশি পরিমাণের শর্করা নির্গত হয়।
৬. দৈহিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করা।
উদ্দীপকের সুমনের ক্রোধ সৃষ্টির ফলে বুক ধড়ফড় করে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হয়। তাই বলা যায় তার শারীরিক পরিবর্তনের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে রাজন ও মোহনের দৌড়ে আসার মূলে সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র (Sympathetic Nervous System) এবং সুমনের বিশ্রাম গ্রহণের মূলে পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্র (Para-Sympathetic Nervous System) কাজ করে।

সমবেদী ও পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের কার্যাবলির মধ্যে বেশকিছু পার্থক্য রয়েছে। গুচ্ছাকার ও শৃঙ্খলাকারে সাজানো যেসব বক্ষদেশীয় ও কটিদেশীয় স্নায়ুগুলো স্বয়ংক্রিয় অঙ্গোর সঙ্গেঙ্গ যুক্ত হয়ে তাদের ক্রিয়াকে বৃদ্ধি করে এমন করোটিক ও নিম্নদেশীয় স্নায়ুগুলোকে পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্র বলে। বক্ষদেশীয় ও কটিদেশীয় স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুসমূহের সমন্বয়ে সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।
শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন, দৈহিক শক্তি ও তাপ বৃদ্ধি করলেও, পরিপাক ও অন্ত্রের ক্রিয়াকে হ্রাস করে সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র এবং শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন, দৈহিক শক্তি ও তাপ হ্রাস করলেও, পরিপাক ও অস্ত্রের ক্রিয়াকে বৃদ্ধি করে পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্র।
উদ্দীপকে, রাজন ও মোহনের দৌড়ে আসা যেহেতু দৈহিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে তাই তা সমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের এবং সুমনের বিশ্রাম যেহেতু তার দৈহিক উত্তাপ হ্রাস করে তাই তা পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রের প্রভাব।
সুতরাং, রাজন ও মোহনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী স্নায়ুতন্ত্র হলো সমবেদী এবং সুমনের ক্ষেত্রে পরাসমবেদী।

312
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

কোনো বাহ্যিক উদ্দীপনা ইন্দ্রিয়কে উদ্দীপিত করলে প্রাণী তার প্রতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে প্রতিক্রিয়া করে তাকে প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলে।

253
উত্তরঃ

পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের কারণে মানুষ লম্বা বা বেঁটে হয়।
পিটুইটারি গ্রন্থির সম্মুখভাগ থেকে শরীরবর্ধক হরমোন নামে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন যদি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্ষরিত হয় তাহলে মানুষ দৈত্য আকৃতির হয়। এমনকি একটি অল্প বয়স্ক কিশোরকেও ৬ থেকে ৮ ফুট লম্বা বলে মনে হয়। আবার এ হরমোনের ক্ষরণ কম হলে দেহ খর্বাকৃতি হয়। এ ধরনের ব্যক্তিকে পিটুইটারি বামনও বলা হয়। তাই বলা যায়, হরমোনের প্রভাবের কারণেই মানুষ লম্বা বা বেঁটে হয়।

756
উত্তরঃ

উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্র-১ এ স্নায়ুকোষ বা নিউরনের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে, যার গঠন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্নায়ুকোষ বা নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের তথ্যের বাহক। সব স্নায়ুকোষের গঠন ও আকৃতি একই রকম নয়। কতকগুলোর দৈর্ঘ্য ও ঘনত্ব এতই ছোট যে দেখার জন্য শক্তিশালী অনুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। আবার কতকগুলো স্নায়ুকোষ তিনফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। সাধারণ কোষের ন্যায় স্নায়ুকোষেরও তিনটি অংশ রয়েছে। যথা- কোষ দেহ, কোষ কেন্দ্র ও কোষ আবরণ। তবে সাধারণ কোষ থেকে স্নায়ুকোষের আরও দুটি অংশ বেশি রয়েছে তা হলো স্নায়ু কেশ ও স্নায়ু শাখা।
কোষ দেহ: সাইটোপ্লাজম নামক অপেক্ষাকৃত তরল পদার্থ নিয়ে গঠিত অংশের নাম হলো কোষ দেহ। সাইটোপ্লাজমের মধ্যে রয়েছে ক্রোমোফিল, গলজিবডি, মাইটোকন্ড্রিয়া, ভ্যাকুউল, লাইসোজম ইত্যাদি। কোষ কেন্দ্র: কোষের মধ্যে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত ঘন গোলাকার ক্ষুদ্র পিন্ডকে বলা হয় কোষ কেন্দ্র। কোষ কেন্দ্রের মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদার্থকে বলা হয় নিউক্লিউলাই। কোষ আবরণ: কোষদেহের বাহিক্য আবরণকে বলে কোষ প্রাচীর বা কোষ আবরণ। কোষের অন্যান্য অংশের তুলনায় অপেক্ষাকৃত শক্ত অংশ হলো কোষ আবরণ। এগুলো ছাড়াও প্রতিটি স্নায়ুকোষে এক বা একাধিক স্নায়ুকোষ থাকে। স্নায়ুকোষগুলো উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং কোষদেহে তা প্রেরণ করে। আবার প্রতিটি স্নায়ুকোষে রয়েছে স্নায়ুশাখা যা সাধারণত পেশি বা গ্রন্থি অথবা অন্য কোনো বার্তা গ্রহণকারী স্নায়ুকোষের সাথে সংযুক্ত থাকে। একে স্নায়ুকোষের প্রস্থান দ্বার বলা হয়ে থাকে।

306
উত্তরঃ

উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্র-১ এবং চিত্র-২ এ চিত্রিত যথাক্রমে স্নায়ুকোষ

বা নিউরন এবং সন্নিকর্ষকে দেখানো হয়েছে যেগুলো শারীরবৃত্তীয় কাজে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।
স্নায়ুকোষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পন্ন করে থাকে। সংবেদী বা অন্তর্মুখী স্নায়ুকোষ শরীরের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় থেকে সংবেদন বা উদ্দীপনা বহন করে মস্তিষ্কে উৎপন্ন স্নায়ুপ্রবাহ বহন করে মাংসপেশি বা গ্রন্থিসমূহে নিয়ে যায়। স্নায়ুকোষের মধ্যে গতিবাহী স্নায়ুকোষ মাংসপেশির সাথে যুক্ত থেকে পেশির সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। ক্ষরণশীল স্নায়ুকোষ গ্রন্থির সাথে সংযুক্ত থেকে গ্রন্থিকে রাসায়নিক পদার্থের ক্ষরণের জন্য উত্তেজিত করে এছাড়াও কার্যবর্ধক ও

অবদমনকারী স্নায়ুকোষ গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পাদনের সাথে সংযুক্ত। আবার সংযোজক স্নায়ুকোষগুলো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ভেতর অবস্থান করে এবং অন্তর্মুখী স্নায়ুকোষের সাথে বহির্মুখী স্নায়ুকোষের সমন্বয় ও সংযোগ স্থাপন করে। স্নায়ুকর্ষ হলো একটি স্নায়ুকোষের সাথে আরেকটি স্নায়ুকোষের সংযোগস্থল। একটি স্নায়ুকোষ থেকে সংকেত বা স্নায়বিক উদ্দীপনা অন্য কোষে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়, যা সন্নিকর্ষমূলক পরিবহন নামে পরিচিত। সন্নিকর্ষের একটি বৈশিষ্ট্য হলো এক স্নায়ুকোষ থেকে উদ্দীপনা অপর একটি স্নায়ুকোষে হয় সম্পূর্ণ পরিবাহিত হবে, না হয় একেবারেই হবে না। মাঝামাঝি সঞ্চালন হবার কোনো সম্ভাবনা নেই।

স্নায়ুকোষগুলো পরস্পরের সাথে সংযুক্ত না থাকার ফলে বড় সুবিধা হলো একটি স্নায়ুকোষ থেকে উদ্দীপনা একের বেশি স্নায়ুকোষে সঞ্চালিত হতে পারে। আবার ঠিক একইভাবে অনেক স্নায়ুকোষের উদ্দীপনা একইসাথে একত্রিত হয়ে একটি স্নায়ুকোষে সঞ্চালিত হতে পারে
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, চিত্র-১ ও ২ এ ইঙ্গিতকৃত স্নায়ুকোষ ও সন্নিকর্ষ শারীরবৃত্তীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

260
উত্তরঃ

যে তন্ত্রের মাধ্যমে প্রাণী তার বাইরের পরিবেশের সাথে সমন্বয় সাধন এবং অঙ্গসংস্থানিক কার্যকলাপকে সুনিয়ন্ত্রিত করে সুসংবদ্ধ জীবনযাপনে সক্ষম হয় তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।

314
উত্তরঃ

প্রতিবর্তী ক্রিয়া প্রাণীর ইচ্ছার দ্বারা নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংঘটিত হয়।
কোনো বাহ্যিক উদ্দীপক ইন্দ্রিয়কে উদ্দীপিত করলে প্রাণী তার প্রতি যে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া করে তাকে প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলে। এ ধরনের ক্রিয়া প্রাণীকে ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়। যেমন- আগুনে হাত লাগলে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া, তীব্র আলোতে চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রভৃতি। যেহেতু প্রাণীর ইচ্ছার ওপর এ ধরনের ক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই একে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়াই বলা যায়।

600
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews