রানার ভোরে শহরে পৌছে যাবে।
'রাত নির্জন, পথে কত ভয়, তবুও রানার ছোটে।'- এ কথার মধ্য দিয়ে দায়িত্বে অবহেলা না করে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রানারের ছুটে চলাকে বোঝানো হয়েছে।
'রানার' কবিতায় কবি শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাপন, দুঃখবোধ এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সততার দিকটি তুলে ধরেছেন। রানার মানুষের সুখ-দুঃখের অনেক অজানা সংবাদবাহক। পিঠে খবরের বোঝা, টাকার বোঝা নিয়ে রাতের অন্ধকারে লন্ঠন জ্বালিয়ে, ঝুমঝুম ঘণ্টা বাজিয়ে ছুটে চলে রানার। সূর্য ওঠার আগেই সে গন্তব্যে পৌঁছতে চায়। তাই নির্জন পথে দস্যুর ভয়ের চেয়ে তার বড় ভয় কখন সূর্য ওঠে।
উদ্দীপকের সামাদ সাহেবের মাঝে 'রানার' কবিতার রানার চরিত্রের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো পেশাগত দায়িত্ববোধ।
পেশাগত দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা উচিত নয়। অথচ বহু লোক আছে যারা দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে না। এরা দেশ, জাতি ও সমাজের উন্নতির অন্তরায়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অর্পিত দায়িত্ব পালনে প্রাণপাত করে। তারাই সভ্যতার নির্মাতা, অগ্রযাত্রী।
উদ্দীপকে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার সামাদ সাহেবের দায়িত্ববোধ, সততা ও সময়নিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সামাদ সাহেব ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে বাড়িতে গেলেও পরদিন অফিসে আসতে তার দেরি হয়নি। তিনি দীর্ঘ চাকরি জীবনে সবার আগে অফিসে আসেন এবং সবার পরে যান। এই বিষয়টি তার দায়িত্ববোধের ও সময়নিষ্ঠার পরিচয় বহন করে। 'রানার' কবিতায় রানার তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত সচেতন। পিঠে খবরের বোঝা, টাকার বোঝা নিয়ে রাতের অন্ধকারে লন্ঠন জ্বালিয়ে সে ছুটে চলে। পথে দস্যুর ভয়ের চেয়েও সে সূর্য ওঠার ভয়ে বেশি ভীত। ক্ষুধার যন্ত্রণা নিয়ে সে ছুটে চলে তার দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে। ক্যাশিয়ার হয়েও ক্যাশের কোনো গরমিল করেন না উদ্দীপকের সামাদ সাহেব। এ বিষয়টি 'রানার' কবিতার রানার পিঠে যে টাকার বোঝা বহন করে সে টাকা তার না ছুঁয়ে দেখার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপক ও কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই দুজন কর্তব্যনিষ্ঠ ও সময়নিষ্ঠ পেশাজীবী।
'সামাদ সাহেব রানার চরিত্রের বিশেষ দিককে ধারণ করলেও রানার স্বতন্ত্র'- মন্তব্যটি যথার্থ।
সমাজে নানা বৈশিষ্ট্যের এবং পেশার লোক বসবাস করে। তাদের একের আচরণের সঙ্গে অন্যের আচরণের মিল-অমিল দুটোই লক্ষ করা যায়। পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে এদের মধ্যে অনেক সময় যথেষ্ট মিল পাওয়া যায়। কিন্তু জীবনযাপন, জীবনের দুঃখবোধ, কাজের ধরন ইত্যাদির মধ্যে মিল থাকে না। থাকলেও তা পুরোপুরি নয়, খণ্ডিত বা আংশিক থাকে।
উদ্দীপকে সামাদ সাহেব ক্যাশিয়ার হিসেবে ব্যাংকে কাজ করছেন ৩০ বছর যাবৎ। কাজের প্রতি তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। তার কারণে কারও যেন কোনো কষ্ট না হয় সে ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত সচেতন। তিনি যথাসময়ে অফিসে আসেন এবং সময় শেষ হওয়ার পর অফিস ত্যাগ করেন। ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বাড়িতে গেলেও পরদিন যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন। উদ্দীপকে ক্লান্ত শ্বাস ছুঁয়েছে আকাশ, মাটি ভিজে গেছে ঘামে- এসব কথা নেই। এই কথার বাস্তব উদাহরণ হয়েছেন 'রানার' কবিতার রানার। ক্ষুধিত রানারের জীবনযন্ত্রণা পথের তৃণ যেভাবে জানে- শহর কিংবা গ্রামের লোকেরা তা জানে না। রানার কবিতার 'রানার' চরিত্রের এই ট্র্যাজেডি উদ্দীপকে নেই।
উদ্দীপকের সামাদ সাহেবের পেশাগত দায়িত্ববোধ ও সময়নিষ্ঠা রানার চরিত্রের বিশেষ দিককে ধারণ করে। কিন্তু রানার চরিত্রের অন্যসব দিক তার চরিত্রের মধ্যে ফুটে ওঠেনি। 'রানার' কবিতার রানার শ্রমজীবী নিম্নশ্রেণির মানুষের প্রতিনিধি। সে অসাম্যের, অমানবিকতার শিকার। কিন্তু উদ্দীপকের সামাদ সাহেব তা নন। সামাদ সাহেবের অফিসের সময়সূচি এবং 'রানার' কবিতার রানারের সময়সূচি এক নয়। রানারের জীবনের সমস্ত দুঃখ কালো রাতের খামে ঢাকা পড়ে থাকে। এসব কারণে রানার স্বতন্ত্র। কাজেই প্রশ্নে উল্লিখিত মন্তব্যটি যথার্থ হয়েছে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!