যে বাজারে দ্রব্যের চাহিদার পরিবর্তনের সাথে যোগান সামান্য পরিবর্তিত হয় তাকে স্বল্পকালীন বাজার বলে।
যে বাজারে বহুসংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতা সদৃশ কিন্তু সামান্য পৃথকীকৃত দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়ে করে তাকে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পূর্ণ প্রতিযোগিতা এবং একচেটিয়া বাজারের কতিপয় বৈশিষ্ট্য একযোগে দেখা যায়। একচেটিয়া প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ফার্ম যে দ্রব্যগুলো উৎপাদন করে, তা সদৃশ হলেও অভিন্ন নয়। সুতরাং, সমজাতীয় অথচ পৃথকীকরণ করা যায় এমন সব দ্রব্য নিয়ে প্রতিযোগিতা এবং একচেটিয়া উৎপাদন সমন্বয়ে যে বাজার গড়ে উঠে তাই একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার। এ বাজারের পণ্যসমূহ হলো- কলম, সাবান, টুথপেস্ট প্রভৃতি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকের প্রথম উক্তিটি পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ভারসাম্য দাম ও পরিমাণ নির্ণয় সম্পর্কিত। নিচে উক্ত ধারণাটি চিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হলো।

পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার হলো এমন এক ধরনের বাজার, যেখানে অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা সমজাতীয় দ্রব্য বেচা-কেনা করে থাকে। এ বাজারে চাহিদা ও যোগানের ঘাত-প্রতিঘাতে বাজার ভারসাম্যে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে পণ্যের দাম ও পরিমাণ নির্ধারিত হয় এবং স্থির থাকে। উপরের চিত্রে লক্ষ করা যায়, চাহিদা ও যোগানের ঘাত-প্রতিঘাত তথা ক্রেতা- বিক্রেতার মধ্যে দরকষাকষির দ্বারা দাম নির্ধারিত হয়। আর দামে চাহিদা যোগান উভয় সমান হয়, যা পরিমাণ।
শিক্ষকের ২য় উক্তটি হলো 'পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে গড় আয় (AR) ও প্রান্তিক আর (MR) সমান হলেও একচেটিয়ায় তা সম্ভব নয়।' নিচে তা যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো।
পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা একটি সমজাতীয় পণ্য একটি নির্দিষ্ট দামে অবাধে ক্রয়-বিক্রয় করে। ফলে কোনো একজন ক্রেতা বা বিক্রেতা এককভাবে পণ্যের দামের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। তাই দাম স্থির থাকে এবং MR = AR হয়। কিন্তু একচেটিয়ায় মাত্র একজন বিক্রেতা থাকায় বিক্রেতা দাম বাড়িয়ে বা কমিয়ে চাহিদার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তাই এ বাজারে AR > MR হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকের বক্তব্য থেকে জানা যায়, পূর্ণ প্রতিযোগিতায় চাহিদা ও যোগান দ্বারা নির্ধারিত দাম ও পরিমাণ স্থির থাকে। তাই এ বাজারে AR = MR হয়। কিন্তু তা একচেটিয়ায় সম্ভব নয়। কেননা একচেটিয়ায় বিক্রেতা পণ্যের যোগান পরিবর্তন করে দামের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
আবার, পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে একজন বিক্রেতা পণ্যের মোট যোগানের একটি নগণ্য অংশ উৎপাদন করে। ফলে তার পক্ষে পণ্যের বাজার যোগানকে প্রভাবিত করতে পারে না। ফলশ্রুতিতে নির্ধারিত দামেই পণ্য বিক্রয় করতে হয়। এই কারণেই মূলত এ বাজারে AR = MR হয়। অন্যদিকে, একচেটিয়া বাজারে বিক্রেতা দাম কম-বেশি করে মুনাফার পরিবর্তন করতে পারে। তাই একচেটিয়া কারবারি প্রান্তিক ব্যয়ের বেশি দামে পণ্য বিক্রয় করে। এ কারণেই এ বাজারে AR > MR হয়ে থাকে।
Related Question
View Allএকটি মাত্র দ্রব্য উৎপাদন করে এমন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে ফার্ম বলে
যে বাজারে দ্রব্যের চাহিদার পরিবর্তনের সাথে যোগান সামান্য পরিবর্তিত হয় তাকে স্বল্পকালীন বাজার বলে।
মাকালীন বাজারের স্থায়ীত্বকাল কম হয়, তাই এ সময়ের মধ্যে স্থির খরচসমূহ (কারখানার আয়তন বা সংখ্যা) পরিবর্তন করা যায় না। তবে পরিবর্তনীয় খরচসমূহ (উপকরণের পরিমাণ) হ্রাস-বৃদ্ধি করে, দ্রব্যের উৎপাদন কম-বেশি করা যায়। এ বাজারে দ্রব্যের দাম, যোগানের চেয়ে চাহিদা দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। গামছা, লুঙ্গি ও শাড়ি প্রভৃতি স্বল্পকালীন বাজারের পণ্য।
কামালের ক্রয়কৃত ম্যাটাডর কলমটি হলো একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পণ্য।
যে বাজারে বহুসংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতা সদৃশ কিন্তু সামান্য পৃথকীকৃত (Similar but slightly differentiated) দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত হয় ঐ বাজারকে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। এ বাজারে কোনো ফার্ম যদি নিজের পণ্যের দাম বাড়ায়, তাহলে ক্রেতা অপর ফার্মের পরিবর্তক দ্রব্য কেনে। এক্ষেত্রে প্রথম ফার্মের পণ্যের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে, তবে চাহিদা কখনও শূন্য হয় না। এ বাজারের পণ্যসমূহ হলো- কলম, সাবান, টুথপেস্ট প্রভৃতি। উদ্দীপকের কামালের ক্রয়কৃত পণ্যটি হলো কলম। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির কলম আছে। সেগুলোকে রং, ডিজাইন এবং সামান্য নামের ভিন্নতার মাধ্যমে আলাদা করা যায়। এক্ষেত্রে একটি কোম্পানির কলমের দাম বাড়লে ক্রেতা অন্য কোম্পানির কলম ক্রয় করবে। কাজেই বলা যায়, কলম হচ্ছে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পণ্য।
কামালের ক্রয়কৃত পণ্যের বাজারটি হলো একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার। নিম্নে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সাথে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সর্ম্পক বিশ্লেষণ করা হলো-
যে বাজারে বহুসংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতা, সমজাতীয় দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত থাকে, তাকে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। আর যে বাজারে কিছু বিক্রেতা সম্পূর্ণ এক না হলেও প্রায় একই ধরনের দ্রব্য বিক্রয় করে তাকে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। উভয় বাজারেই ক্রেতা ও বিক্রেতার পক্ষে সহজে বাজারে প্রবেশ ও প্রস্থানের সুযোগ রয়েছে। উদ্দীপকের কামালের ক্রয়কৃত কলমটি একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পণ্য। এ বাজারে বিক্রির জন্য যে কলমগুলো সরবরাহ করা হয়, সেগুলো ব্র্যান্ড, রং, ডিজাইন এবং নামের ভিন্নতার মাধ্যমে আলাদা করা যায়। তাছাড়া এরূপ বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিক্রেতা সামান্য ভূমিকা রাখতে পারে। একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারে, পূর্ণ প্রতিযোগিতা এবং একচেটিয়া বাজারের কতিপয় বৈশিষ্ট্য একযোগে দেখা যায়। একচেটিয়া প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ফার্ম যে দ্রব্যগুলো উৎপাদন করে, সেগুলোর মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। আর এই দ্রব্যের পৃথকীকরণের মধ্যে একচেটিয়া বাজারের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। আবার বহু ক্রেতা-বিক্রেতা থাকায় পূর্ণ প্রতিযোগিতার বৈশিষ্ট্যও পরিলক্ষিত হয়।
যেহেতু একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার দুটি ভিন্ন বাজারের সমন্বয়ে গঠিত, তাই পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সাথে এককভাবে একচেটিয়া
কোনো কিছু উৎপাদনের জন্য যেসব বস্তু বা সেবাকর্মের প্রয়োজন সেগুলোকে উৎপাদনের উপকরণ বলে।
উৎপাদিত দ্রব্যের পৃথকীকরণ বলতে বোঝায় বাজারে বিভিন্ন ফার্ম যে নির্দিষ্ট দ্রব্যটি উৎপাদন করে সেটি গুণগত ও বাহ্যিকভাবে একটি অপরটি থেকে পৃথক।
বিভিন্ন ফার্মের উৎপাদিত দ্রব্যগুলো অনেকটা সদৃশ হলেও একটি অপরটির পরিবর্তক (তবে পূর্ণ পরিবর্তক নয়) হতে পারে। বিক্রেতা বিজ্ঞাপন ব্যয়, প্যাকিং, ডিজাইন, সামান্য নামের ভিন্নতার মাধ্যমে উৎপন্ন দ্রব্যের প্রভেদীকরণ করে। যেমন- প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধের বাজার।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!