'আবিদ' অর্থ ইবাদতকারী।
হজ একই সাথে দৈহিক, আত্মিক ও আর্থিক ইবাদত বলে একে সামগ্রিক ইবাদত বলা হয়। ইসলাম ধর্মে যেসব মৌলিক ইবাদত রয়েছে সেগুলোর কোনোটি দৈহিক ও আত্মিক ইবাদত, আবার কোনোটি আত্মিক ও আর্থিক ইবাদত। সালাত ও সাওম প্রথম প্রকারের এবং জাকাত দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু হজের ক্ষেত্রে তিনটি প্রক্রিয়ারই সমন্বয় জরুরি। মানুষের সামগ্রিক কর্মতৎপরতার সকল কিছুই হজে নিবেদিত হয়।
শফিকুল ইসলামের জাকাত আদায় গ্রামের লোকদের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কার্যকর। জাকাত প্রথা অর্থনৈতিক সাম্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে প্রণীত ইসলামের একটি মৌলিক ইবাদত। দরিদ্র-অসহায় মানুষদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। জাকাত আদায়ের মাধ্যমে সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন হয়। তাই উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রামটির অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানেও জাকাত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে।
শফিকুল হক একজন বিত্তশালী লোক। তিনি নিয়মিত জাকাত আদায় করেন। এক্ষেত্রে তিনি গ্রামের দরিদ্র-অসহায়দেরকে জাকাত প্রদানে প্রাধান্য দেন। ফলে তাদের উপকার হয়। প্রকৃতপক্ষে এভাবে পরিকল্পিত উপায়ে জাকাত প্রদান সমাজে অভাব-অনটন নির্মূলে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যথেচ্ছভাবে এবং কোনোরূপ যাচাই-বাছাই ছাড়া জাকাত প্রদান করলে জাকাতের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। এর ফলে সমাজের দরিদ্র শ্রেণির লোকেরা অর্থনৈতিক অসাম্য থেকে মুক্তি পায় না এবং তাদের অভাব-অনটনও দূর হয় না। তাই জাকাত প্রদানে শফিকুল ইসলামের ন্যায় দরিদ্র-অসহায়দেরকে প্রাধান্য দিতে হবে। এভাবে তাদেরকে নিয়মিত জাকাত প্রদান করলে এক সময় তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং তাদের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান ঘটবে। সুতরাং বলা যায়, শফিকুল ইসলামের জাকাত আদায় তার গ্রামের লোকদের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে দৃষ্টান্ত হতে পারে।
শফিকুল ইসলামের জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে নিয়ত ঠিক না থাকায় তার মধ্যে তাসাউফের অনুপস্থিতি রয়েছে বলা যায়। ইসলামের প্রতিটি জীবনবিধানের একটি বাহ্যিক এবং একটি অভ্যন্তরীণ দিক রয়েছে। ইসলামের বাহ্যিক দিক হচ্ছে শরিয়ত এবং অভ্যন্তরীণ দিক হচ্ছে তাসাউফ। এ দুটি দিক একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। উদ্দীপকে শরিয়তের উপস্থিতি থাকলেও তাসাউফের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয় না।
কেবল শরিয়ত মেনে চললে ইবাদত গ্রহণযোগ্য হয় না। ইবাদত গ্রহণযোগ্য করার জন্য শরিয়তের সাথে সাথে তাসাউফেরও অনুসরণ আবশ্যক। যেমন শরিয়ত সালাত, সাওম, জাকাত আদায়ের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ইবাদত গ্রহণযোগ্য হওয়া বা না হওয়া নির্ভর করে তাসাউফের ওপর। কেননা ইবাদত গ্রহণযোগ্য হয় তাকওয়া ও খুলুসিয়াতের মাধ্যমে। তাসাউফ ব্যক্তির আত্মা | পরিশুদ্ধ করে তাকে তাকওয়া ও খুলুসিয়াতের গুণে ভূষিত করে।
এখন উদ্দীপকের শফিকুল ইসলাম যে জাকাত আদায় করেন তা শরিয়তের অংশ। কিন্তু তিনি তাকওয়া বা আল্লাহভীতি থেকে জাকাত আদায় করেন না; বরং চেয়ারম্যান নির্বাচনে সুবিধা লাভের অভিপ্রায়ে জাকাত দেন। এ থেকে বোঝা যায় তার অন্তর পরিশুদ্ধ নয়। অর্থাৎ তার কর্মকাণ্ডে তাসাউফের অনুপস্থিতি বিদ্যমান। ফলে তার ইবাদত গ্রহণযোগ্য হবে না।
ওপরের আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে, শফিকুল ইসলাম তার ইবাদতের ক্ষেত্রে শরিয়ত ও তাসাউফের সমন্বয় ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
Related Question
View Allঅর্থের সাথে সম্পর্ক থাকায় হজ সর্বজনীন ইবাদত নয়। হজ একটি দৈহিক, আত্মিক ও আর্থিক ইবাদত। নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষেই কেবল হজ কোনো ব্যক্তির ওপর ফরজ হয়। এক্ষেত্রে দৈহিক ও আর্থিক সামর্থ্য প্রধান দুটি শর্ত। কিন্তু এই পৃথিবীতে সবার একই সাথে দৈহিক ও আর্থিক সামর্থ্য না থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই যাদের ক্ষেত্রে এ দুটি শর্ত পূরণ হয় কেবল তাদের জন্যই হজ ফরজ।
জাউদ্দীপকে সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্বের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। সালাত একটি আনুষ্ঠানিক ও দৈহিক ইবাদত। তবে সালাতের মূল আবেদন আত্মিক ইবাদত হিসেবে। সালাত মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে মানসিক প্রশান্তি সৃষ্টি করে। এটি সালাতের আধ্যাত্মিক গুরত্বেরই প্রতিফলন। উদ্দীপকেও রবিউল আলম সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্বের ফলভোগী হয়েছেন।
রবিউল আলম কিছুদিন পূর্বেও ধর্ম-কর্মে মনোযোগী ছিলেন না। তার আত্মা ছিল কলুষিত। কিন্তু সালাত আদায় করার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে সালাতের মাধ্যমে মানবাত্মা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে। কাঙ্ক্ষিত প্রিয় সত্তার সান্নিধ্য লাভ করায় আত্মার উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা দূর হয়ে যায়। তার মধ্যে প্রশান্তি বিরাজ করে। ফলে আত্মার সার্বিক অবস্থানে স্থিরতা ও তৃপ্তি নেমে আসে। উদ্দীপকের রবিউল আলমের ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছে। সালাত আদায়ের মাধ্যমে তার কলুষিত আত্মা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করেছে। সুতরাং দেখা যায়, রবিউল আলমের আত্মিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সালাতের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যই প্রতিফলিত হয়েছে।
রবিউল আলম আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য সালাত আদায়ের পাশাপাশি আল্লাহর জিকর, তাবলিগ, সৎ গুণাবলির অনুসরণ, তওবা ও মাগফিরাত কামনা করতে পারেন।
মানুষের চালিকাশক্তি ও জীবনীশক্তি হলো আত্মা। আত্মা সুস্থ থাকলে মানুষও সুস্থ থাকে। আর আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও সুস্থ রাখার জন্য তাসাউফের অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। উদ্দীপকের রবিউল আলমও তাসাউফের চর্চা সাধানার মাধ্যমে পরিপূর্ণ আত্মিক প্রশান্তি লাভ করতে পারেন।
রবিউল আলম নিয়মিত সালাত আদায় করেন। আত্মাকে সুস্থ রাখতে তিনি সালাত আদায়ের সাথে সাথে বেশি করে আল্লাহর জিকর করতে পারেন। আবার নিজে সৎ পথে চলার পাশাপাশি তিনি অন্যকেও সৎ কাজের জন্য উৎসাহিত করতে পারেন। এর ফলে তার আত্মা সুস্থ ও পবিত্র থাকবে। তাছাড়া তিনি রাসুলুল্লাহ (স) ও তার সাহাবি (রা) গণের জীবনের সৎগুণাবলির অনুসরণের মাধ্যমেও আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারেন। তবে তিনি যেহেতু পূর্বে অনেক অন্যায় করেছেন, সেহেতু সব সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। তওবার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অন্যায় না করার দৃঢ় প্রত্যয় জ্ঞাপন করলে তার আত্মা আরও প্রশান্তি লাভ করবে।
এভাবে ওপরের কাজগুলোর মাধ্যমে তিনি আত্মিকভাবে লাভবান হতে পারেন। পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত বিষয়গুলো তাসাউফ চর্চারই নামান্তর। তাই তাসাউফ চর্চা ও সাধনার মাধ্যমেই আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে আত্মিক প্রশান্তি লাভ করা সম্ভব।
হযরত উমর (রা) এর মৃত্যুর পর তার কন্যা হযরত হাফসা (রা)-এর কাছে আল কুরআন সংরক্ষিত ছিল।
পরকালীন জীবনের মতো পার্থিব জীবনের ওপরও আল কুরআন গুরুত্বারোপ করেছে। মহানবি (স) বলেছেন, 'দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র'। অর্থাৎ পার্থিব জীবনের কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই পরকালীন সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারিত হবে। তাই কুরআন মানুষকে পার্থিব সাফল্য ও কল্যাণ লাভের নির্দেশ প্রদান করেছে। সুরা বাকারার ২০১নং আয়াতে বলা হয়েছে- হে আমাদের প্রভু। আমাদেরকে পৃথিবীতে কল্যাণ দিন। আখিরাতে কল্যাণ দিন।'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!