অপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার প্রধানত তিন প্রবার।
একচেটিয়া বাজারে ফার্ম ও শিল্পের মধ্যে পার্থক্য নেই।
অর্থনীতিতে সমজাতীয় দ্রব্য ও সেবা উৎপাদনকারী কোনো একক প্রতিষ্ঠানকে ফার্ম বলা হয়। অন্যদিকে, কোনো সমজাতীয় দ্রব্য ও সেবা উৎপাদনে নিয়োজিত সকল উৎপাদন প্রতিষ্ঠান বা ফার্মের সমষ্টিকে শিল্প বলা হয়। আমরা জানি, একচেটিয়া বাজারে একটিমাত্র ফার্ম বা উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান পণ্যের সমস্ত যোগান নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া, এ বাজারে উৎপাদিত পণ্যের কোনো নিকটতম বিকল্প পণ্য থাকে না। এরূপ বৈশিষ্ট্যের কারণে এ বাজারে ফাম ও শিল্প অভিন্ন হয়।
মামুন ও স্বপনের উৎপাদিত দ্রব্যটি আয়তনের দিক থেকে স্বস্থানীয় বাজারের অন্তর্ভুক্ত।
যেসব দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয় একটি বিশেষ এলাকার মধ্যে সীমাবন্দ থাকে। তাকে স্থানীয় বাজার বলে। সাধারণত তাড়াতাড়ি পচনশীল এবং সহজে পরিবহণযোগ্য নয় এমন দ্রব্যের বাজার নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ থাকে। স্বভাবতই এ বাজারে দ্রব্যের চাহিদা ও উৎপাদনের পরিমাণ কম হয়। তবে বর্তমানে সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতির ফলে পচনশীল দ্রব্যের বাজার স্থানীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের ও বিদেশের বাজারেও বিস্তৃতি লাভ করেছে।
উদ্দীপকে মামুনের তুলনায় স্বপনের উৎপাদিত দ্রব্যটি বেশি উন্নতমানের হালও তাদের উৎপাদিত দ্রব্যটির বাজার নিজেদের এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কারণ তাদের উৎপাদিত পণ্য শহরের বাজারে নিয়ে আসা অনেক ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। তাই আয়তনের দিক থেকে এটি স্থানীয় বাজারের অন্তর্ভুক্ত।
অনুন্নত পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মামুন ও স্বপন তামের উৎপাদিত দ্রব্য কম দামে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে ফেলে, যা বাংলাদেশের বাজার ব্যবস্থার সীমাবন্দতাকে প্রতিনিধিত্ব করে
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোকে বিভিন্ন বাজারের সাথে সংযুক্ত করার জন্য উন্নত অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্পজাত পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত যয়। তাছাড়া তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারে অজ্ঞতার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিক্রেতাগণ অন্যান্য শহরের বাজারে উৎপাদিত পণ্যের দাম সম্পর্কে সচেতন থাকে না। তাছাড়া পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধার কারণে উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন শহরে বাজারজাত করা যায় না। আর বাজারজাত করলেও পরিবষণ ব্যয় খুব বেশি পড়ে। এসব কারণে বেশির ভাগ মানুষই তাদের উৎপাদিত পণ্য কম দামে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে ফেলে। উদ্দীপকের মামুন ও স্বপন দুইজনই প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা যারা নারকেলের ছোবড়া দিয়ে উন্নতমানের পাপোশ তৈরি করেন। কিন্তু উন্নতমানের শিল্পকর্ম তৈরি করেও তারা তাদের উৎপাদিত দ্রব্যের ন্যায্য দাম পায় না। কারণ তাদের এলাকার সাথে শহরের বাজারের যোগাযোগের জন্য। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো নেই। তাই অপেক্ষাকৃত কম দামেই স্থানীয় বালারে তারা পাপোশগুলো বিক্রি করে দেয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, মামুন ও স্বপনের এলাকার অনুন্নত বাজার ব্যবস্থা বাংলাদেশের বাজার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকেই
Related Question
View Allএকটি মাত্র দ্রব্য উৎপাদন করে এমন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে ফার্ম বলে
যে বাজারে দ্রব্যের চাহিদার পরিবর্তনের সাথে যোগান সামান্য পরিবর্তিত হয় তাকে স্বল্পকালীন বাজার বলে।
মাকালীন বাজারের স্থায়ীত্বকাল কম হয়, তাই এ সময়ের মধ্যে স্থির খরচসমূহ (কারখানার আয়তন বা সংখ্যা) পরিবর্তন করা যায় না। তবে পরিবর্তনীয় খরচসমূহ (উপকরণের পরিমাণ) হ্রাস-বৃদ্ধি করে, দ্রব্যের উৎপাদন কম-বেশি করা যায়। এ বাজারে দ্রব্যের দাম, যোগানের চেয়ে চাহিদা দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। গামছা, লুঙ্গি ও শাড়ি প্রভৃতি স্বল্পকালীন বাজারের পণ্য।
কামালের ক্রয়কৃত ম্যাটাডর কলমটি হলো একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পণ্য।
যে বাজারে বহুসংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতা সদৃশ কিন্তু সামান্য পৃথকীকৃত (Similar but slightly differentiated) দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত হয় ঐ বাজারকে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। এ বাজারে কোনো ফার্ম যদি নিজের পণ্যের দাম বাড়ায়, তাহলে ক্রেতা অপর ফার্মের পরিবর্তক দ্রব্য কেনে। এক্ষেত্রে প্রথম ফার্মের পণ্যের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে, তবে চাহিদা কখনও শূন্য হয় না। এ বাজারের পণ্যসমূহ হলো- কলম, সাবান, টুথপেস্ট প্রভৃতি। উদ্দীপকের কামালের ক্রয়কৃত পণ্যটি হলো কলম। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির কলম আছে। সেগুলোকে রং, ডিজাইন এবং সামান্য নামের ভিন্নতার মাধ্যমে আলাদা করা যায়। এক্ষেত্রে একটি কোম্পানির কলমের দাম বাড়লে ক্রেতা অন্য কোম্পানির কলম ক্রয় করবে। কাজেই বলা যায়, কলম হচ্ছে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পণ্য।
কামালের ক্রয়কৃত পণ্যের বাজারটি হলো একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার। নিম্নে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সাথে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সর্ম্পক বিশ্লেষণ করা হলো-
যে বাজারে বহুসংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতা, সমজাতীয় দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত থাকে, তাকে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। আর যে বাজারে কিছু বিক্রেতা সম্পূর্ণ এক না হলেও প্রায় একই ধরনের দ্রব্য বিক্রয় করে তাকে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। উভয় বাজারেই ক্রেতা ও বিক্রেতার পক্ষে সহজে বাজারে প্রবেশ ও প্রস্থানের সুযোগ রয়েছে। উদ্দীপকের কামালের ক্রয়কৃত কলমটি একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পণ্য। এ বাজারে বিক্রির জন্য যে কলমগুলো সরবরাহ করা হয়, সেগুলো ব্র্যান্ড, রং, ডিজাইন এবং নামের ভিন্নতার মাধ্যমে আলাদা করা যায়। তাছাড়া এরূপ বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিক্রেতা সামান্য ভূমিকা রাখতে পারে। একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারে, পূর্ণ প্রতিযোগিতা এবং একচেটিয়া বাজারের কতিপয় বৈশিষ্ট্য একযোগে দেখা যায়। একচেটিয়া প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ফার্ম যে দ্রব্যগুলো উৎপাদন করে, সেগুলোর মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। আর এই দ্রব্যের পৃথকীকরণের মধ্যে একচেটিয়া বাজারের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। আবার বহু ক্রেতা-বিক্রেতা থাকায় পূর্ণ প্রতিযোগিতার বৈশিষ্ট্যও পরিলক্ষিত হয়।
যেহেতু একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার দুটি ভিন্ন বাজারের সমন্বয়ে গঠিত, তাই পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সাথে এককভাবে একচেটিয়া
কোনো কিছু উৎপাদনের জন্য যেসব বস্তু বা সেবাকর্মের প্রয়োজন সেগুলোকে উৎপাদনের উপকরণ বলে।
উৎপাদিত দ্রব্যের পৃথকীকরণ বলতে বোঝায় বাজারে বিভিন্ন ফার্ম যে নির্দিষ্ট দ্রব্যটি উৎপাদন করে সেটি গুণগত ও বাহ্যিকভাবে একটি অপরটি থেকে পৃথক।
বিভিন্ন ফার্মের উৎপাদিত দ্রব্যগুলো অনেকটা সদৃশ হলেও একটি অপরটির পরিবর্তক (তবে পূর্ণ পরিবর্তক নয়) হতে পারে। বিক্রেতা বিজ্ঞাপন ব্যয়, প্যাকিং, ডিজাইন, সামান্য নামের ভিন্নতার মাধ্যমে উৎপন্ন দ্রব্যের প্রভেদীকরণ করে। যেমন- প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধের বাজার।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!