যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি মলিকানা ও বেসরকরি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে।
দ্বি-খাতবিশিষ্ট অর্থনীতির দুই প্রতিনিধির (পরিবার ও ফার্ম) মধ্যে আয়-ব্যয়ের বিনিময় প্রবাহকে আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ বলে।
দেশের জনগণ তথা পরিবারের উৎপাদনের উপকরণগুলো হলো- ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন ফার্মের কাছে সরবরাহ করে। বিনিময়ে সেখান থেকে সেগুলোর দামস্বরূপ খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা বাবদ আয় করে। এ আয় পরিবারের ব্যয়ের সমান। আয়-ব্যয়ের এরূপ চক্রাকার প্রবাহকে আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ বলে।
দৃশ্যপট-১ এ অর্থনীতির 'বাণিজ্যে সবাই উপকৃত হয়' এবং 'মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়' নীতি দুটির প্রতিফলন ঘটেছে।
বাণিজ্যে সবাই উপকৃত হয়' নীতিটির মূল বিষয়বস্তু হলো ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই বাণিজ্য হতে উপকৃত হবে। আবার অন্যদিকে, 'মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়' নীতিটি দ্বারা বোঝায়, মানুষ যদি প্রকৃত মজুরি তথ। কর্ম ক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বেশি পায় তাহলে কাজের স্পৃহা বাড়ে এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে দ্রব্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকের আনিসুল হক একটি নামকরা পোশাক কারখানার মালিক। তৈরি পোশাক খাতে তার মতো এমন আরও অনেক মালিক রয়েছে। এজন্য পোশাক উৎপাদনের ক্ষেত্রে তাকে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। আর এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য আনিসুল হককে যতটুকু সম্ভব কম ব্যয়ে গুণগত মানের পোশাক তৈরি করতে হয় এবং যথাসাধ্য কম দামে পোশাক বিক্রয় করতে হয়। আবার আনিসুল হক তার পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের স্বার্থের দিকে খেয়াল রাখেন। শ্রমিকদের দিয়ে গুণগত মানের অধিক পোশাক তৈরি করার জন্য তাদের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন এবং কাজের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে শ্রমিকদের পুরস্কৃত করেন। যা শ্রমিকদের কর্মস্পৃহা বাড়িয়ে দেয়।
অমিতের গার্মেন্টস-এর ওপর কোর্স করার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অর্থনীতির 'সুযোগ ব্যয়' এবং 'যুক্তিবাদী মানুষ প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা করে' নীতি দুটি প্রতিফলিত হয়েছে।
সুযোগ ব্যয়' নীতিটি দ্বারা বোঝায়, সর্বোত্তম বিকল্প ত্যাগ। অর্থাৎ একটি দ্রব্যের অতিরিক্ত উৎপাদন পাওয়ার জন্য অপর দ্রব্যের যতটুকু ছেড়ে দিতে হয়, সেই ছেড়ে দেওয়ার পরিমাণ হলো সুযোগ ব্যয়। অর্থনীতির অন্য একটি নীতি হলো 'মানুষ প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা করে'। এই নীতিটির মূল কথা হলো কোনো একটি দ্রব্য ভোগ যদি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হয় তাহলে অতিরিক্ত একক ভোগ থেকে যে উপযোগ পাওয়া যায় তা কতটুকু উপকারে আসছে তা নিয়ে চিন্তা করা। উদ্দীপকে আনিসুল হক তার ছেলে অমিতকে নিজেদের পোশাক কারখানায় ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিতে বলেন। কিন্তু অমিত গার্মেন্টস-এর ওপর একটি কোর্স করতে আমেরিকায় চলে যায়। যা সুযোগ ব্যয়ের ধারণাকে নির্দেশ করে। কারণ বিদেশে গিয়ে কোর্স করার জন্য সে ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করতে পারছে না। তাছাড়া অমিত মনে করে, গার্মেন্টস বিষয়ের কোর্স করার মধ্য দিয়ে তার কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং সে ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে। অমিতের এরূপ চিন্তাধারার মাধ্যমে অর্থনীতির প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা নীতির প্রতিফলন ঘটেছে। উপরের আলোচনার মাধ্যমে বলা যায়, সুযোগ ব্যয়ের মাধ্যমে মানুষ দুই বা ততোধিক কাজের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজটিকে আগে সম্পাদন করার চেষ্টা করে। আবার দেখা যায়, মানুষ প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা করতে পারে। অর্থাৎ কোনো একটি দ্রব্য ক্রমান্বয়ে ভোগের ফলে যদি প্রাপ্ত প্রান্তিক উপযোগ তার প্রান্তিক ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয় তখন সেটি হবে একটি যুক্তিবাদী মানুষের চিন্তা এবং সেই অতিরিক্ত একক ভোগ তার উপকারে আসবে।
Related Question
View Allভূমিবাদীদের (Physiocracy) মতে, কৃষিই (খনি ও মৎস্য ক্ষেত্রসহ) হলো অন্যতম বা প্রধান উৎপাদনশীল খাত।
দুষ্প্রাপ্যতা বলতে অসীম অভাবের তুলনায় সম্পদের সীমাবদ্ধতাকে বোঝায়।
মানুষ তার অভাব পূরণ করার জন্য যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ভোগ করতে চায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। অর্থাৎ মানবজীবনের অসংখ্য অভাবের তুলনায় উৎপাদনের উপকরণ তথা প্রাপ্ত সম্পদের স্বল্পতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে। উদাহরণ- সাকিবের কাছে এক হাজার টাকা আছে। তার শার্ট, প্যান্ট এবং ভালো জুতা দরকার। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তার টাকার পরিমাণ কম। এটি সম্পদের 'দুষ্প্রাপ্যতাকে' নির্দেশ করছে।
সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত। সেখানে প্রায় সব শিল্প- কারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি বা সামাজিক নির্দেশে পরিচালিত হয়ে থাকে। তাছাড়া সমাজতন্ত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত দামে দ্রব্যাদি ভোগ করে থাকে। কোনো ভোক্তা চাইলেই নিজের খুশিমতো অর্থ ব্যয় করে কোনো কিছু ভোগ করতে পারে না। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা নেই বললেই চলে, কারণ সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য পরিচালিত হয়। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে জমি, কলকারখানা ও খনি প্রভৃতি প্রায় সকল কিছুর মালিকানা থাকে সরকার বা রাষ্ট্রের হাতে। সেখানে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও বণ্টন প্রক্রিয়া (কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে, কীভাবে এবং কাদের জন্য উৎপাদিত হবে) সম্পর্কে মৌলিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার কিছু পার্থক্য রয়েছে।
যে অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের। ওপর রাষ্ট্রীয় বা সরকারি মালিকানা থাকে তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। পক্ষান্তরে, যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলা হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তার স্বাধীনতা থাকে না। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ভোক্তা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। কারণ সেখানে দাম-সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব কেন্দ্রের হাতে ন্যস্ত। সেখানে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় চাহিদা- যোগানের স্বয়ংক্রিয় ঘাত-প্রতিঘাতের দ্বারা দাম নির্ধারিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোন কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে ও কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কীভাবে বণ্টন করা হবে- এসব পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা নির্ধারিত হয়। তাই সেখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়, তাই সেখানে ধনতন্ত্রের মতো সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা ও মুনাফা অর্জনের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। সেই সাথে বেসরকারি পর্যায়ে - অর্থনৈতিক কার্যাবলির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকে।
কাজেই বলা যায়, সুমির দেশের অর্থব্যবস্থা তথা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার অনেক পার্থক্য রয়েছে।
ইংল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো- "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে।"
অর্থনীতির ভাষায় শ্রমিকদেরকে কাজে উৎসাহিত করার জন্য গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থাই হলো প্রণোদনা।
অর্থনীতিতে উৎসাহ বা প্রণোদনা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষ প্রণোদনা পায় বলেই যে কোনো কাজ যত্নের সাথে সম্পন্ন করে। কাজের স্থায়িত্ব, শ্রমিকদেরকে লভ্যাংশ প্রদান, বিনামূল্যে পোশাক, চিকিৎসা, বাসস্থান, বেতনসহ ছুটি, বৃদ্ধ বয়সে পেনশন, কাজের ঝুঁকি হ্রাস ইত্যাদি প্রণোদনার কৌশল ব্যবহার করে শ্রমিকদেরকে অধিক উৎপাদনে উৎসাহিত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!