আশ শিফা' শব্দের অর্থ নিরাময়, আরোগ্য।
পবিত্র কুরআন শুদ্ধ করে পড়া বা তাজবিদ অনুযায়ী তিলাওয়াত করা ফরজ। পবিত্র কুরআন শুদ্ধ করে তিলাওয়াত প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, وَرَيْلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا অর্থ: 'আর তুমি সুবিন্যস্ত এবং সুস্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত করো' (সুরা মুযযামমিল- ০৪)। এ কারণেই তাজবিদ অনুযায়ী যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করা আবশ্যক। অশুদ্ধ তিলাওয়াতের কারণে চরম গুনাহের অধিকারী হতে হয়। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স) বলেন, 'এমন অনেক কুরআন পাঠক আছে, 'যারা কুরআন তিলাওয়াত করে অথচ কুরআন তাদের অভিশাপ দেয়।' কাজেই আমাদের উচিত গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য তাজবিদ অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত করা।
কুরআন তিলাওয়াত না শিখে জনাব আরিফ মহান আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছেন। নফল ইবাদতের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত করা। এর মাধ্যমে বান্দা অল্প সময়ে, অল্প পরিশ্রমে অধিক সাওয়াবের অধিকারী হতে পারে। রাসুল (স) বলেন, 'যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষর পাঠ করে, সে প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশ নেকি সওয়াব পায়' (তিরমিযি)।
উদ্দীপকের জনাব আরিফ পড়াশোনা এবং বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে কুরআন তিলাওয়াত শিখতে পারেননি। যা আল্লাহর নির্দেশ অমান্যের শামিল। কুরআন তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন,-
وَاتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ كِتَابِ رَبِّكَ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ
অথঃ তোমার প্রতি তোমার প্রভুর কিতাব থেকে যে ওহি এসেছে তা তিলাওয়াত করো। তার বাক্য পরিবর্তন করার ক্ষমতাসম্পন্ন কেউ নেই (সুরা কাহাফ-২৭)।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত না শিখলে যেমন কুরআন তিলাওয়াত করা যায় না, তেমনি এর বিধি-বিধান ও বিষয়বস্তু সম্পর্কেও অনুধাবন করা যায় না। একজন মুসলমান হিসেবে এটি চরম লজ্জা এবং গুনাহের বিষয়। উপরের আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। আর এ নির্দেশ পালন না করা মানে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা। সুতরাং জনাব আলিফ আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছেন।
কুরআন না শিখে জনাব আলিফ জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশাল ভান্ডার থেকে বঞ্চিত হয়েছে- জনাব জামিলের উক্তিটি সঠিক এবং যথার্থ।
জনাব আলিফ ছোটবেলায় পিতা-মাতার অবহেলায় পবিত্র কুরআন শিখতে পারেননি; বড় হয়েও তিনি তা শেখার চেষ্টা করেননি। এ কথা শুনে তার বন্ধু জামিল কুরআন না শিখে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তার এ কথাটি অত্যন্ত যৌক্তিক। কারণ পবিত্র কুরআন হচ্ছে সব প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভাণ্ডার। অতীত জাতির ইতিহাস, বর্তমান ঘটনার বিশ্লেষণ এবং নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষেত্রে কুরআন সর্বতোভাবে নির্ভুল উৎস। সব রকমের জাগতিক, বৈষয়িক ও ধর্মীয় জ্ঞান- বিজ্ঞানের মূল উৎস আল কুরআন। ব্যাকরণ, আইন, আধ্যাত্মিকতা, গণিত, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, দর্শন, নৃতত্ত্ব, ইতিহাস, সাহিত্য-তর্কশাস্ত্র, অলংকারশাস্ত্র, ফারায়েজ (সম্পদ বণ্টননীতি), বর্ষপঞ্জীসহ জীবনঘনিষ্ঠ সব প্রয়োজনীয় জ্ঞানের মূলনীতি বর্ণনা করা হয়েছে পবিত্র কুরআনে। মূলত এমন কোনো বিষয় নেই যা পবিত্র কুরআনে পরিবেশিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, 'আমি পবিত্র কুরআনে কোনো কিছুই বাদ দেইনি' (সুরা আনআম-৩৮)। কাজেই যারা কুরআনকে জানবে না, কুরআন শিখবে না তারা পবিত্র কুরআনের এই অমূল্য সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে। আর যেহেতু জনাব আলিফ পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে জানেন না, কাজেই তিনিও এই মহামূল্যবান সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
পবিত্র কুরআনের আলোচ্য বিষয় বিবেচনা করে বলা যায়, জনাব জামিলের উক্তিটি সঠিক ও যথার্থ।
Related Question
View Allসবর শব্দের অর্থ অবিচল থাকা, ধৈর্যধারণ করা।
মুত্তাকি' বলতে আল্লাহভীরু লোকদের বোঝায়। মুত্তাকি শব্দের অর্থ আল্লাহভীরু বা পরহেজগার। জন্মগত বা বংশগত কারণে কারো পক্ষে মুত্তাকি হওয়া সম্ভব নয়। মুত্তাকি হতে হলে কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন। সুরা বাকারার আলোকে সেগুলো হলো অদৃশ্য বিষয়ের অস্তিত্বে বিশ্বাসী হতে হবে। সব হুকুম-আহকাম পালনের মাধ্যমে সালাত কায়েম করবে। তাকে আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন তা থেকে মানুষের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করবে।
জনাব জাহিদ কুরআন অবতরণের পদ্ধতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আল-কুরআন সর্বপ্রথম লাওহে মাহফুজ বা সুরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ ছিল। তারপর আল্লাহ তায়ালা লাওহে মাহফুজ থেকে কুরআন অবতরণের সূচনা করেন। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকাবস্থায় মহান আল্লাহর নির্দেশে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে আল-কুরআনের সুরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নিয়ে মহানবি (স) এর কাছে অবতরণ করেন। যা উদ্দীপকের জনাব জাহিদের বক্তব্যে ফুটে ওঠে।
উদ্দীপকের জাহিদ পবিত্র কুরআনের অবতরণ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন, এটা একবারে নাজিল বা অবতীর্ণ হয়নি এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছে। এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) বলেন, 'লাওহে মাহফুজ থেকে সমগ্র কুরআন কোনো এক কদরের রাতে পৃথিবীর আকাশের 'বায়তুল ইযযাহ' নামক স্থানে নাজিল হয়। বায়তুল ইযযাহ হলো বায়তুল মামুরের অপর নাম। এটি বায়তুল্লাহ বরাবর পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশে ফেরেশতাদের ইবাদতগৃহ। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে রাসুল (স)-এর প্রতি ধীরে ধীরে প্রয়োজন মতো অল্প অল্প অংশ নাজিল হয়ে দীর্ঘ তেইশ বছরে এ নাজিল প্রক্রিয়া পূর্ণতা পায়' (আল-ইত্কান, বায়হাকি)। রাসুল (স) এর ওপর স্বপ্নযোগে, ঘন্টাধ্বনিতে, জিবরাইল (আ) নবিজির অন্তরে কুরআন ঢেলে দেওয়ার মাধ্যমে, জিবরাইল (আ) এর নিজস্ব আকৃতিতে নবিজির কাছে ওহি নিয়ে অবতরণ, সরাসরি আল্লাহর সাথে কথোপকথন প্রভৃতি মাধ্যমে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। সুতরাং জনাব জাহিদ এসব পদ্ধতিরই ইঙ্গিত করেছেন।
আদর্শ জাতি গঠনে পবিত্র কুরআনের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে- জনাব নাহিদের এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করি। পবিত্র কুরআন সর্বশেষ আসমানি কিতাব। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর নবুয়ত জীবনের সুদীর্ঘ তেইশ বছরে এটা অবতীর্ণ হয়েছিল। কুরআনে মানবজীবনের সবকিছুর সমাধান রয়েছে। যা নাহিদের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের জনাব নাহিদ আদর্শ জাতি গঠনে কুরআনের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করেন। কুরআন মাজিদ বিশ্বমানবের সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবননির্বাহের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত বিধি-ব্যবস্থাপনা। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ব্যক্তিজীবন হতে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ও বিভাগে মানব সমস্যার অন্ত নেই। মানবজাতিকে এ সমস্যার আবর্ত হতে পরিত্রাণ করে সুষ্ঠু- শান্তিময় ও উদ্বেগহীন জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ তায়ালা সর্বশেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর প্রতি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব আল-কুরআন নাজিল করেছেন। তিনি মানবজীবনের সব সমস্যার সমাধান এই মহাগ্রন্থে উপস্থাপন করেছেন।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- আর আমি তোমার ওপর কিতাব নাজিল করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা সম্বলিত, হেদায়েত, রহমত এবং সুসংবাদ-মুসলিম জাতির জন্য (সুরা নাহল: ৮৯)। রাসুলুল্লাহ (স) তাঁর বিদায় হজের ভাষণে এজন্যই বলেছেন- 'আমি তোমাদের মাঝে দুটো বিষয় রেখে যাচ্ছি। যদি তোমরা এ দুটোকে আঁকড়ে ধর, কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। একটা হলো আল্লাহর কিতাব এবং অপরটি তাঁর রাসুলের সুন্নত' (মিশকাত)। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের পরিপূর্ণ অনুসরণ করার মাধ্যমে আদর্শ ও কল্যাণকর জাতি গঠন করা সম্ভব।
কুরআন বিশ্ববাসীর জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা, সুপথের নির্দেশনা ও রহমত স্বরূপ।
স্বকীয় উপস্থাপনা ও আলোচ্য বিষয়ের বৈচিত্রের কারণে কুরআন সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ। আল-কুরআন আল্লাহর কালাম। এর রচনাশৈলী ও বিষয়বিন্যাস স্বতন্ত্র। এর প্রকাশরীতি, ব্যঞ্জনা, অভিব্যক্তি ও আবেদন অনুপম। এর ভাষা অনন্য। এ গ্রন্থ বিষয়ভিত্তিক ধ্যান-ধারণায় রচিত নয়। স্বকীয় উপস্থাপনা ও বিষয়বৈচিত্র্যের কারণে কুরআন অনবদ্য। বিশিষ্টতা পেয়েছে। আল-কুরআন সর্বজনীন ও সর্বকালীন এক চিরন্তন সত্য মহাগ্রন্থ। এ গ্রন্থের সংশয়হীনতা ও অভ্রান্ত নির্দেশনা এতটাই সুনিশ্চিত ও অকাট্য যে, তা সব কালের ও সব দেশের মানুষের জন্য প্রযোজ্য। তাছাড়া পবিত্র কুরআনের ভাষাচয়ন লক্ষ করলে দেখা যায়, এটা সম্পূর্ণ পদ্য কিংবা পুরোপুরি গদ্য নয়। বরং এ দুয়ের সংমিশ্রণে নাজিল এক অভূতপূর্ব গ্রন্থ- যা এ গ্রন্থটির উচ্চ মর্যাদা প্রকাশ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!