কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে মানুষ একত্রিত হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করলে তাকে মানব বসতি বলে। প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে উপযোগী করে চলার এটাই প্রথম অবস্থা। পরিবেশের সঙ্গে মানুষের অভিযোজনের প্রথম পদক্ষেপ হলো বসতি স্থাপন। মানুষ প্রাকৃতিক অনুকূল অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানব বসতি গড়ে তোলে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভিন্নতার জন্য বিভিন্ন ধরনের বসতি গড়ে উঠেছে, যেমন- যে দেশীয় জলবায়ু অঞ্চলের এস্কিমোরা বরফের ঘরে এবং বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রামীণ বসতিতে দোচালা ও চৌচালা ধরনের ঘরে বাস করতে দেখা যায়। আর বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বসতিতে আধুনিক নকশা ও নির্মাণসামগ্রী প্রয়োগ করে উচ্চ অট্টালিকা তৈরি হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রামীণ ও শহর উভয় স্থানে বসতি বৃদ্ধির হার বেড়েই চলেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে পরিবেশ দূষণ ব্যাপকভাবে হচ্ছে।
Related Question
View Allমুসলিম সভ্যতায় (অষ্টম শতাব্দী থেকে) নগরায়ণের প্রসার ঘটে।
মাটির উর্বরাশক্তির ওপর নির্ভর করে বসতি স্থাপন করা হয়।
উর্বর মাটিতে পুঞ্জীভূত বসতি গড়ে ওঠে। মানুষ কৃষিজমির পাশে বসতি গড়ে তোলে যাতে করে সহজে ও কম খরচে ফসল ফলাতে পারে এবং খাদ্যের চাহিদা মেটাতে পারে। যেমন- যমুনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল। কিন্তু মাটি অনুর্বর বা অসমতল হলে বিক্ষিপ্ত জনবসতি গড়ে ওঠে। যেমন- চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল।
উদ্দীপকে বাদলের শহরটি গড়ে ওঠার পিছনে ইপিজেড (EPZ- Export Processing Zone) এর ভূমিকা রয়েছে।
বাদলের শহরটি পূর্বে গ্রাম ছিল। সেখানে একটি ইপিজেড (শিল্প এলাকা) প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখন তা শহর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বস্তুত শিল্পকে কেন্দ্র করে কোনো স্থানে ধীরে ধীরে জনবসতি ঘন হয়ে ওঠে। বসতির লোকেরা শিল্পকারখানার আশপাশে বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে তোলে। অনেক ছোট ছোট ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানও গড়ে ওঠে। এছাড়া বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন- গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎরাস্তাঘাট, ব্যাংক-বীমা ইত্যাদি সহজলভ্য হয়। এভাবে ধীরে ধীরে কোনো স্থানে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানাকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ ও জনবসতি বৃদ্ধি পায়। যা পরবর্তীতে শহরে পরিণত হয়।
সুতরাং বলা যায়, বাদলের শহরটি গড়ে ওঠার পিছনে ইপিজেড খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!