সাধারণ মানুষের চিত্তাবিহীন জগতে কান্না-হাসির অন্তরালে কবি হারিয়ে যেতে চান।
'আশা' কবিতায় কবি মানুষের জীবনের ক্রমবর্ধমান জটিলতাকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রত্যাশা করেছেন। দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষেরা যা রোজগার করে তা দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকে। তারা সমাজে অবহেলিত, নিগৃহীত হলেও তাদের এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। তারা সম্পদ বাড়ানোর চিন্তায় ঘুম হারাম করে না, সোনা-রুপার পাহাড়ও বানাতে চায় না। এসব ভাবনা থেকে দূরে থাকে বলে তারা ভালো থাকে এবং সুখে দিন কাটায়। তাই কবি এসব মানুষের মাঝে হারিয়ে যেতে চান। তাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার অন্তরালে নিজেকে লুকাতে চান।
আমি সেই জগতে হারিয়ে যেতে চাই,
যেথায় গভীর-নিশুত রাতে
জীর্ণ বেড়ার ঘরে
নির্ভাবনায় মানুষেরা ঘুমিয়ে থাকে ভাই ॥
যেথায় লোকে সোনা-রূপায়
পাহাড় জমায় না,
বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনায়
আয়ু কমায় না;
যেথায় লোকে তুচ্ছ নিয়ে
তুষ্ট থাকে ভাই ॥
সারা দিনের পরিশ্রমেও
পায় না যারা খুঁজে
একটি দিনের আহার্য সঞ্চয়,
তবু যাদের মনের কোণে
নেই দুরাশা গ্লানি,
নেই দীনতা, নেই কোনো সংশয় ৷
যেথায় মানুষ মানুষেরে
বাসতে পারে ভালো
প্রতিবেশীর আঁধার ঘরে
জ্বালতে পারে আলো,
সেই জগতের কান্না-হাসির
অন্তরালে ভাই
আমি হারিয়ে যেতে চাই ॥
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!