ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা বলতে ভেদাভেদহীন ধর্মচেতনাকে বোঝায়। এই চেতনায় একক কোনো ধর্মের বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে উদার ধর্মনীতিতে বিশ্বাস করা হয়।

পৃথিবীর সব সমাজ বা রাষ্ট্রে সবসময় একই ধর্মের অনুসারী মানুষ থাকে তা ঠিক নয়। এমন অনেক রাষ্ট্র বা সমাজ রয়েছে যেখানে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম অনুসারী বসবাস করে। সেই সমাজ বা রাষ্ট্রে প্রতিটি ধর্ম অনুসারীদের সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেখানে কোনো একটি ধর্ম অনুসারীদের তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। সমাজ বা রাষ্ট্রের এমন চেতনাকেই ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা বলে।

2.4k

বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত (২০০৮) বাংলাদেশের উৎসব : নববর্ষ নামক গ্রন্থ থেকে রচনাটি সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন মোবারক হোসেন। বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখ বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক উৎসব। কৃষি-নির্ভর এদেশে ফসল উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ধারণা তৈরি হয়। এ উৎসব শুধু হিন্দুর বা মুসলমানদের কিংবা বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের নয়-এ উৎসব সমগ্র বাঙালির। এ উৎসব শুধু বিত্তবান, মধ্যবিত্ত বা দীন দরিদ্র কৃষকের নয়- এ উৎসব বাংলাভাষী এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী সমস্ত মানুষের। ধর্মীয় সংকীর্ণতার বৃত্ত অতিক্রম করে বাংলা নববর্ষ উৎসব আজ আমাদের জাতীয় চৈতন্যের ধারক- এ অভিমত ব্যক্ত করে লেখক প্রবন্ধটিতে পয়লা বৈশাখের জয়গান গেয়েছেন। ‘পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধটি বাংলাদেশের উৎসব ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা দেবার পাশাপাশি ধর্ম ও সম্প্রদায়-নিরপেক্ষ জাতীয় ঐক্যবোধে মিলিত হবার শিক্ষা দেয়।

Related Question

View All
উত্তরঃ

নববর্ষ এক অস্তিত্বকে বিদায় দিয়ে অন্য জীবনে প্রবেশ করায় নবজন্মের ধারণা প্রকাশ করে।

2.3k
উত্তরঃ

'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে প্রকাশিত নববর্ষ উদ্যাপনের 'হালখাতা' অনুষ্ঠানের বিষয়টি উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন বাঙালির ঐতিহ্য, সর্বজনীন উৎসব। পুরনো বছরের সমস্ত গ্লানি মুছে ফেলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নতুন করে, নতুন প্রাণে প্রাণিত হয়। এই উৎসবে জাতি-ধর্ম-গোত্র, উঁচু-নিচু কোনো ভেদাভেদ থাকে না। বাংলা ভাষা, বাংলার উৎসব, বাংলার মানুষ- পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত।

উদ্দীপকে শহর অঞ্চলে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। রমনা বটমূলকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা শহরের সব শ্রেণির মানুষ বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ, কার্টুন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীকধর্মী চিত্র বহন করে। 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধের নববর্ষ উদ্যাপনের অন্যতম বিষয় হালখাতা। এটি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অনুষ্ঠান। সারা বছর বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্রয় করার কারণে বছর শেষে ক্রেতার কাছে টাকা পাওনা থাকে। সেই টাকা পরিশোধ করার জন্য নববর্ষের দিন তাকে নিমন্ত্রণ করে এনে বিক্রেতা তাকে মিষ্টিমুখ করান। ক্রেতাও বিগত বছরের পাওনা মিটিয়ে দিয়ে পুরনো খাতার হিসাবের ইতি টানেন। এই আনন্দের বিষয়টি উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

1.3k
উত্তরঃ

সামাজিক প্রকৌশলীদের আজ বাংলা নববর্ষের মধ্যে সচেতনভাবে নতুন মাত্রিকতা যোগ করতে হবে। লেখকের এই প্রত্যাশাই যেন উদ্দীপকটি ধারণ করেছে। মন্তব্যটি যথার্থ।

বাংলা নববর্ষ উৎসব বাঙালির প্রাণের উৎসব। পয়লা বৈশাখে প্রতিবছর বাংলা নববর্ষ উৎসব পালিত হয়। এই দিনে জাতি-ধর্ম-বর্ণ- গোত্র-উঁচু-নিচু, ধনী-দরিদ্র ইত্যাদির বৈষম্য ভুলে সব বাঙালি আনন্দে মেতে ওঠে। ফলে নববর্ষ উদ্যাপনের চেতনা তাদের ঐক্যবদ্ধ করে উজ্জীবিত করে তোলে।

উদ্দীপকে শহরকেন্দ্রিক মানুষের জীবনধারায় বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের নানা বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার বটমূলে 'ছায়ানট'-এর উদ্যোগে নববর্ষ উৎসব পালনের ঐতিহাসিকতা তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে এটি সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে দেশের সর্ববৃহৎ জাতীয় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয় এবং তাতে বিশেষ বিশেষ সামাজিক বিষয় ও অসংগতি নির্দেশ করে মুখোশ পরিধান করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সমকালীন সমাজ- রাজনীতি সম্পর্কে মানুষ ধারণা লাভ করে। এই বিষয়টি 'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে সচেতনতার দিকটিকে নির্দেশ করে। উদ্দীপকেও তার পরিচয় পাওয়া যায়।

'পয়লা বৈশাখ' প্রবন্ধে বাংলা নববর্ষে বাঙালির অংশগ্রহণ ও সচেতনতাবোধের বিকাশ বিশেষভাবে চোখে পড়ে। এতে বাঙালির লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য অত্যন্ত গৌরবমণ্ডিত হয়ে উপস্থিত হয়। এখানে সমাজ নির্মাণের কারিগররা নিজস্ব চিন্তা-চেতনায় সাধারণকে উন্নত জীবনমানের সন্ধান দিতে পারেন। তাতে পয়লা বৈশাখ আরও মূল্য ও মর্যাদা লাভ করবে। আর ধর্মীয় সংস্কৃতির সংকীর্ণতার গণ্ডি যত ক্ষুদ্র হয়ে আসবে, জাতীয় চৈতন্য তত বেড়ে যাবে। বাঙালি তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির মাধ্যমে আরও বেশি আত্মবিকাশের সুযোগ পাবে। আর এ কারণেই বলা হয়েছে- সামাজিক প্রকৌশলীদের আজ বাংলা নববর্ষের মধ্যে সচেতনভাবে নতুন মাত্রিকতা যোগ করতে হবে।

679
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews