জাতীয় প্রতীক ও রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক- উভয় পার্শ্বে ধানের শীষবেষ্টিত পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা, ভাব শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পরযুক্ত পাতা, তার উভয় পার্শ্বে দুটি করে তারকা।
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার কামরুল হাসান।
- জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের অধিকারী- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
- সম্পর্কে সংবিধানের যে অনুচ্ছেদে বর্ণনা আছে ৪(৩) অনুচ্ছেদে ।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীর মনোগ্রাম - লাল রঙের বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র। বৃত্তের ওপর দিকে লেখা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ', নিচে লেখা 'সরকার' এবং বৃত্তের দুপাশে দুটি করে মোট এটি ভারা।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোহানের ডিজাইনার এ এন সাহা।
জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত- ১০:৬ বা ৫ : ৩ ।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রূপকার চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান।
- জাতীয় পতাকার নকশা প্রথম তৈরি করেন- শিব নারায়ণ দাস।
- বাসভবন, নৌযান, গাড়ি ও বিমানে জাতীয় পতাকা ব্যবহার তে পারেন- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
- এ জাতীয় পতাকা উত্তোলন পিক- ২ মার্চ।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়- ২ মার্চ ১৯৭১।
- প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন- ডাকসু ভিপি আ স ম আব্দুর রব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার এক ছাত্র সভায়।
- জাতীয় পতাকা সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমঙ্গি নিজ বাসভবনে, ২৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে।
- জাতীয় পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দেয়া সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি হয় ৪ জানুয়ারি ১৯৭২।
- বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় পতাকা গৃহীত হয়- ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি।
- বাংলাদেশের বাইরে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়- কলকাতায় পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনে।
- জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকে- শহীদ দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি), জাতীয় শোক দিবস (১৫ আগস্ট) এবং সরকার কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত অন্য যে কোনো দিবস।
জাতীয় সঙ্গীতঃ
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯০৫ সালে)। "আমার সোনার বাংলা" কবিতার প্রথম ১০টি চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- আমার সোনার বাংলা' কবিতাটিতে চরণ আছে ২৫টি।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়- বাংলা ১৩১২ সাল প্রথম মুদ্রিত হয়- সঞ্জীবনী পত্রিকায়।
- স্বরবিতান কাব্য এবং গীতবিতান কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'আমার সোনার বাংলা' বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়। ৩ মার্চ, ১৯৭১, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহারে।
- আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীত হিসাবে গাওয়া হয়- ৭ মার্চ, ১৯৭১ রেসকোর্স ময়দানে।
- সংবিধানের ৪ যার ১ উপ অনুচ্ছেদ অনুসারে জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় স্পীডের প্রথম ৪ চরণ বাজানো হয় ।
- জাতীয় সঙ্গীতের প্রথম ইংরেজি অনুবাদক আলী আহসান।
- জাতীয় সংগীতে ফুটে উঠেছে- বাংলার প্রকৃতি
রণসঙ্গীত:
- বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা ও সুরকার- জাতীয় কবি কাজী নজরল ইসলাম।
- বাংলাদেশের রণসঙ্গীত প্রথম যে পত্রিকায় প্রকাশিত হয় 'শিক্ষা' পত্রিকায়।
- যে শিরোনামে রণসঙ্গীত প্রকাশিত হয় নতুনের গান।
- উৎসব অনুষ্ঠানে রণসঙ্গীতের চরণ বাজানো হয় ২১ চরণ বা লাইন।
ক্রীড়া সঙ্গীত ও জাতীয় খেলা
- বাংলাদেশের ক্রীড়া সঙ্গীতের রচয়িতা- সেলিমা রহমান (১০ চরণ বিশিষ্ট)।
- বাংলাদেশের ক্রীড়া সঙ্গীতের সুরকার খন্দকার নূরুল আলম। বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি।
- করাচিকে জাতীয় পেশা হিসেবে ঘোষণা করা হয়- ১৯৭২ সালে।
জাতীয় বন ও চিড়িয়াখানা:
- বাংলাদেশের জাতীয় বন সুন্দরবন।
- সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা- ৭৯৮তম। (প্রচলিত তথ্যমতে ৫২২তম)
- পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন।
- ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে- ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর।
- বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা (মিরপুর) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৪ সালে।
- ঢাকা চিড়িয়াখানা মিরপুরে স্থানাসুর করা হয়- ১৯৭৪ সালে (পর্বে ছিল হাইকোর্ট চত্ত্বরে)।
- ঢাকা চিড়িয়াখানার বর্তমান নাম- বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা [ নতুন নামকরণ (৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫)।
জাতীয় মসজিদ
- বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদের নাম-বায়তুল মোকাররম মসজিদ।
- ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়— ২৭ জানুয়ারি, ১৯৬০৷
জাতীয় কবি
- কাজী নজরুল ইসলামকে কলকাতা থেকে স্থায়ীভাবে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় ২৪ মে, ১৯৭২ [সূত্র বঙ্গভবনের শতবর্ষ, পৃ. ৬৫]।
- কখন কবি নকলকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা প্রদান করা হয়। ২৪ মে, ১৯৭২ [সূত্র বঙ্গভবনের শতবর্ষ, পৃ. ৬৫%।
- কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়- ১৯৭৬।
- কবি নজরুল ইন্তেকাল করেন- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ বাংলা)।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবি নজরুল ইসলামকে সম্মানসূচক ডি লিট উপাধিতে ভূষিত করে- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৭৪।
জাতীয় জাদুঘর:
- জাতীয় জাদুঘর অবস্থিত- শাহবাগ, ঢাকা।
- জাতীয় জাদুঘরের পূর্বনাম — ঢাকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় ২০ মার্চ, ১৯১৩ সালে]।
- ঢাকা জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে 'জাতীয় জাদুঘর' রাখা হয়— ১৯৮৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর।
- জাতীয় জাদুঘরের স্থপতি- মোস্তফা কামাল।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ
- জাতীয় স্মৃতিসৌধ অবস্থিত- সাভারের নবীনগরে।
- জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়— ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২; স্থপতি— সৈয়দ মাইনুল হোসেন।
- জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফলকের সংখ্যা- ৭টি (উচ্চতা-১৫০ ফুট বা ৪৫.৭২ মিটার)।
- সাতটি ফলকের তাৎপর্য- ১৯৫২-১৯৭১ পর্যন্ত স্বাধীনতা আন্দোলনের ৭টি পর্যায়ের রূপক ইঙ্গিত নির্দেশক।
- জাতীয় দিবস
- বাংলাদেশের জাতীয় দিবস- ২৬ শে মার্চ (স্বাধীনতা দিবস)।
- ২৬ শে মার্চকে জাতীয় দিবস/স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়- ১৯৮০ সালে।
- জাতীয় ফুল:
- বাংলাদেশের জাতীয় ফুলের নাম- শাপলা (সাদা রঙের, পানিতে ভাসমান)।