মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা একজন বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও লেখক। তিনি জৈব রসায়ন, বিজ্ঞানচর্চা ও প্রযুক্তি শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। জন্ম বীরভূম জেলার মাড়গ্রামে।
শিক্ষা:
প্রাথমিক: মাড়গ্রাম এম.ই. স্কুল ও উডবার্ন স্কুল, কলকাতা
১৯১৮: কলকাতা মাদ্রাসা, ম্যাট্রিক (প্রথম বিভাগ)
১৯২৪: প্রেসিডেন্সি কলেজ, এম.এসসি (রসায়ন), স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত
১৯২৯: লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়, ডি.এসসি (Stainless Configuration of Multiplanmet Ring)
কর্মজীবন:
১৯৩১: প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়নের প্রভাষক
১৯৩৬: বিভাগীয় প্রধান
১৯৪২–১৯৪৪: ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ
১৯৪৭–১৯৪৯: পূর্ব পাকিস্তান সরকারের জনশিক্ষা পরিচালক
১৯৪৯: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞান উপদেষ্টা
১৯৫২–১৯৫৫: মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান
১৯৫৫: পূর্বাঞ্চলীয় গবেষণাগারের প্রথম পরিচালক (ঢাকা)
১৯৬৬: কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান
১৯৭২: জাতীয় শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট)
১৯৭৫: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর
গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অবদান:
প্রধান গবেষণা ক্ষেত্র: জৈব রসায়ন
বনৌষধি, পাট, লবণ, কাঠকয়লা, মৃত্তিকা ও খনিজ পদার্থের উপর গবেষণা
স্থানীয় উদ্ভিদ থেকে ঔষধ ও জৈব রাসায়নিক উপাদান নিষ্কাশন
১৮টি বৈজ্ঞানিক পেটেন্ট আবিষ্কার
উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন: পারটেক্স (পাটকাঠি থেকে), আখের রস ও গুড় থেকে মল্ট ভিনেগার, পাট ও পাটকাঠি থেকে রেয়ন ও কাগজ
বিজ্ঞান ও শিক্ষা সম্প্রসারণ:
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা জনপ্রিয়করণে অবদান
বাংলা বই: বিজ্ঞানের সরস কাহিনী, জৈব রসায়ন (চার খণ্ড), বিজ্ঞানের সূচনা, পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প সম্ভাবনা, পরমাণু পরিচিতি ইত্যাদি
প্রকাশিত পত্রিকা: পুরোগামী বিজ্ঞান (১৯৬৩), বিজ্ঞানের জয়যাত্রা (১৯৭২)
স্বাধীনতা ও জাতীয় অবদান:
স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা
বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে অবদান
সম্মাননা ও পুরস্কার:
পাকিস্তান সরকার: তমঘা-ই-পাকিস্তান, সিতারা-ই-ইমতিয়াজ
বাংলাদেশ সরকার: একুশে পদক (১৯৭৬), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৮৪)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: সম্মানসূচক ডক্টরেট
জীবনাবসান:
মৃত্যু: ৩ নভেম্বর ১৯৭৭, ঢাকা