Academy

.

তোমার বন্ধুর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে একটি বৈদ্যুতিন চিঠি লেখ।

Created: 1 year ago | Updated: 7 months ago
Updated: 7 months ago

তোমার বন্ধুর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে একটি বৈদ্যুতিন চিঠি লেখ।


Earn by adding a description for the above question! 🏆✨ Provide correct answer/description to Question, help learners, and get rewarded for your contributions! 💡💰'

পত্র রচনা

পত্র বা চিঠি:

'পত্র' শব্দটির আভিধানিক বা ব্যবহারিক অর্থ স্মারক বা চিহ্ন। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে মানবমনের কোনো ভাব, সংবাদ, তথ্য, আবেদন ইত্যাদি অপরের কাছে লিখিতভাবে জানানো হলে, তাকে সাধারণভাবে পত্র বা চিঠি বলে। সুন্দর, শুদ্ধ চিঠির মাধ্যমে মানুষের শিক্ষা, বুদ্ধিমত্তা, রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে। সুলিখিত চিঠি অনেক সময় উন্নত সাহিত্য হিসেবে বিবেচিত হয়। যেমন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ছিন্নপত্র'।

  • চিঠি লিখতে হলে কতকগুলো সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হয়। যেমন-

ক. চিঠির প্রকাশভঙ্গি আকর্ষণীয় হতে হবে। এর জন্য সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় চিঠি লিখতে হবে।

খ. পত্রে কোনো কঠিন শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ভাষা প্রয়োগে শুদ্ধতা বজায় রাখতে হবে।

গ. হাতের লেখা যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখতে হবে।

ঘ. চিঠির বক্তব্য হবে সুস্পষ্ট। পত্রে অনাবশ্যক কিংবা অতিরঞ্জিত কোনোকিছু না লেখাই ভালো।

ঙ. চিঠি লেখার পদ্ধতি মেনে চলতে হবে। খামে নাম ঠিকানা স্পষ্টাক্ষরে লিখতে হবে।

পত্র বা চিঠির অংশ:

একটি চিঠি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত। যথা:

১. শিরোনাম

২. পত্রগর্ভ।

১. শিরোনাম: এর প্রধান অংশ প্রাপকের ঠিকানা। এই অংশে চিঠির খামের ওপর বামদিকে প্রেরকের ঠিকানা ও ডান দিকে প্রাপকের ঠিকানা লিখতে হয়। বর্তমানে সরকারি পোস্ট অফিসে প্রাপ্ত খামের সামনের অংশে প্রাপকের ঠিকানা লেখার নির্দিষ্ট ছক এবং পেছনের অংশে প্রেরকের ঠিকানা আলাদা ছাপানো ছক রয়েছে। 'লেফাফা' শব্দের অর্থ- খাম বা চিঠিপত্রের উপরের আবরণবিশেষ; এতে ডাকটিকেট লাগানো হয়। পোস্টাল কোড পোস্ট অফিসের নাম নির্দেশ করে। প্রবাসী বন্ধুকে লেখা পত্রের ঠিকানা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হবে। পূর্ণ ও স্পষ্ট ঠিকানার অভাবে চিঠিপত্র গুলোকে 'ডেড লেটার' বলা হয়।

২. পত্রগর্ভ: এটি হচ্ছে চিঠির ভেতরের অংশ। পত্রের মূল বিষয়কে পত্রের গর্ভাংশ বলা হয়।

বিষয়বস্তু, প্রসঙ্গ ও কাঠামো অনুসারে বিভিন্ন ধরনের পত্রকে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:

১. ব্যক্তিগত চিঠি

২. আবেদনপত্র বা দরখাস্ত

৩. সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য চিঠি

৪. মানপত্র ও স্মারকলিপি

৫. বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িকপত্র

৬. আমন্ত্রণ বা নিমন্ত্রণপত্র

১. ব্যক্তিগত চিঠি: ব্যক্তিগত চিঠির কাঠামোতে ছয়টি অংশ থাকে। যথা:

ক. মঙ্গলসূচক শব্দ: এককালে ব্যক্তিগত চিঠির প্রথমে কাগজের পৃষ্ঠার মাঝামাঝি জায়গায় পত্রলেখক মঙ্গলসূচক শব্দ লিখতেন। আজকাল ব্যক্তিগত চিঠিতে এগুলো আর লেখা হয় না।

খ. স্থান ও তারিখ: ব্যক্তিগত পত্রের ওপরের ডানদিকে তারিখ এবং যে স্থানে বসে পত্র লেখা হচ্ছে তার নাম লিখতে হয়।

গ. সম্বোধন: পত্র লেখার শুরুতে পত্রের বামদিকে প্রাপকের সঙ্গে সম্পর্ক অনুযায়ী সম্বোধন বা সম্ভাষণ লিখতে হয়। পত্রদাতার সঙ্গে প্রাপকের সম্পর্ক অনুসারে এবং পত্র-প্রাপকের মান, মর্যাদা, সামাজিক প্রতিষ্ঠা অনুযায়ী সম্বোধনসূচক শব্দ নির্বাচন করতে হয়। যেমন-

  • ব্যক্তিগত পত্রের সম্ভাষণ রীতি-
শ্রদ্ধাভাজন (পুরুষ)শ্রদ্ধাস্পদেষু, পরম শ্রদ্ধাভাজন, মাননীয়, মান্যবরেষু, মান্যবর, শ্রদ্ধাভাজনেষু ইত্যাদি।
শ্রদ্ধাভাজন (মহিলা)মাননীয়া, মাননীয়াসু, শ্রদ্ধেয়া, শ্রদ্ধাস্পদাসু ইত্যাদি।
সমবয়স্ক প্রিয়জন/বন্ধু (পুরুষ)বন্ধুবরেষু, অভিন্নহৃদয়েষু, প্রিয়বরেষু, প্রিয়, প্রিয়বর, বন্ধুবর, সুপ্রিয়, সুহৃদবরেষু, প্রীতিভাজনেষু ইত্যাদি।
সমবয়স্ক প্রিয়জন/বন্ধু (মহিলা)সুচরিতাসু, প্রীতিভাজনীয়াসু, প্রীতিনিলয়াসু, সুহৃদয়াসু ইত্যাদি
বয়ঃকনিষ্ঠ (ছেলে)কল্যাণীয়, কল্যাণীয়েষু, স্নেহাস্পদেষু, স্নেহভাজনেষু, স্নেহের, প্রীতিভাজনেষু, প্রীতিনিলয়েষু ইত্যাদি।
বয়ঃকনিষ্ঠ (মেয়ে)কল্যাণীয়া, কল্যাণীয়াসু, স্নেহের, স্নেহভাজনীয়া, স্নেহভাজনীয়াসু ইত্যাদি।

ঘ. মূল পত্রাংশ (মূল বক্তব্য): পত্র লেখার সময় পত্রের বক্তব্য ও বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। এই অংশে পত্রলেখকের মূল বক্তব্য, উদ্দেশ্য, ইচ্ছা, আবেগ, অনুভূতি, ঔৎসুক্য ইত্যাদি লিখতে হয়। পত্র-সমাপ্তিসূচক অভিব্যক্তির পর বিদায় সম্ভাষণ হিসেবে পত্র-প্রাপকের সঙ্গে লেখকের সম্পর্ক অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্থান, কাল, পাত্রভেদে পত্র-প্রাপকের সঙ্গে সম্পর্ক অনুসারে বিশেষণ ব্যবহারে পাথর্য্য দেখা যায়। বিদায় সম্ভাষণ সাধারণত পত্রের ডানদিকে লিখতে হয়। যেমন-

ব্যক্তিগত পত্রের বিদায় সম্ভাষণ-

প্রাপক শ্রদ্ধাভাজন (পুরুষ)স্নেহভাজন, স্নেহধন্য, স্নেহাকাড়ী, প্রীত্যর্থী, গুণমুগ্ধ, প্রণত, প্রীতিধণ্য, প্রীতিস্নিগ্ধ ইত্যাদি।
প্রাপক শ্রদ্ধাভাজন(পত্রলেখক পুরুষ) স্নেহধন্যা, প্রণতা, বিনীতা, গুণমুগ্ধা প্রীতিধন্যা, প্রীতিস্নিগ্ধা ইত্যাদি।
প্রাপক বয়সে ছোট হলেআশীর্বাদক, আশীর্বাদিকা, শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ী ইত্যাদি।

প্রাপক অনাত্মীয়

সম্মানীয় লোক

(পত্রলেখক পুরুষ) নিবেদক, ভবদীয়, বিনীত, বিনয়াবনত ইত্যাদি।

(পত্রলেখক মহিলা) নিবেদিকা, বিনীতা, বিনয়াবনত ইত্যাদি।

প্রাপক বন্ধুস্থানীয় বা

প্রিয়ভাজন

(পত্রলেখক পুরুষ) প্রীতিধন্য, প্রীতিমুগ্ধ, অভিন্নহৃদয়, আপনারই, তোমারই ইত্যাদি।

(পত্রলেখক মহিলা) প্রীতিধন্য, প্রীতিমুগ্ধ, অভিন্নহৃদয়া ইত্যাদি।

ঙ. নাম-স্বাক্ষর (পত্রলেখকের স্বাক্ষর): নাম-স্বাক্ষর চিঠির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই চিঠির শেষে অবশ্যই স্বাক্ষর করতে হয়।

চ. শিরোনাম: পত্র পাঠাবার খামের উপর লিখতে হয়। খামের উপর বাম দিকে পত্রলেখকের (প্রেরক) ঠিকানা এবং ডান দিকে পত্র প্রাপকের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা স্পষ্টভাবে লিখতে হয়। খামের উপরে ডান কোণে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মূল্যের ডাক টিকিট লাগাতে হয়। আজকাল বড় বড় পোস্ট অফিসে ডাক টিকিটের পরিবর্তে মেশিনের সাহায্যে খামের উপর ছাপ মারার ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

২. আবেদনপত্র বা দরখাস্ত: যে পত্র চাকরির জন্য লিখতে হয় তার নামই আবেদনপত্র। অর্থাৎ সুযোগ-সুবিধা প্রার্থনা করে কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত পত্রের নাম আবেদনপত্র।

৩. সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য চিঠি: সংবাদপত্র একটি আবেদন প্রকাশের জন্য সম্পাদকের বরাবর পাঠাতে হয়। বিজ্ঞপ্তি হলো- সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য নিখোঁজ সংবাদ।

৪. মানপত্র ও স্মারকলিপি: অভিনন্দন বা সংবর্ধনা পত্রকে মানপত্র বা স্মারকলিপি বলা হয়।

৫. বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িকপত্র: বাণিজ্যিক পত্রে বিষয়ের স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।

৬. আমন্ত্রণ বা নিমন্ত্রণপত্র: আপ্যায়নের উদ্দেশ্যে যে দাওয়াত পত্র, তাকে নিমন্ত্রণপত্র বলে।

৭. দলিল বা চুক্তিপত্র: বৈষয়িক ব্যাপারে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আইনানুসারে লিখিত পত্রকে দলিলপত্র বা চুক্তিপত্র বলে।

Content added || updated By

Related Question

View More
No answer found.
Answer the Question and earn rewards! 🏆✨ <br> Provide correct answer to Question, help learners, and get rewarded for your contributions! 💡💰'
Ans

 

To : orkid@gmail.com

Cc :  

Bcc :

Subject : Personal letter

প্রিয় অর্কিড, আগামী ১৮ এপ্রিল ২০১৮ (৫ বৈশাখ, ১৪২৫) সোমবার আমার বড় বোনের বিয়ে। এ বিয়েতে উপস্থিত থেকে বর- কনেকে দোয়া করার জন্য তোমার বাড়ির সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার বড় আপাকে তোমার মনে আছে নিশ্চয়ই। এসএসসি পরীক্ষার সময় তোমার গাল টিপে মাথায় হাত বুলিয়ে যিনি আদর ও দোয়া করেছিলেন, সেই আপার বিয়ে। আপা নিজে তোমার কথা বলেছেন। তুমি দুদিন আগেই আমাদের বাসায় চলে আসবে। অনেক কাজ আছে সেগুলো তোমাকে সঙ্গে নিয়েই করতে হবে। তুমি থাকলে অনেক মজা হবে, অনেক আনন্দ করা যাবে। আপার বর সদ্য চাকরি পাওয়া একজন ইঞ্জিনিয়ার। তার সঙ্গেও খাতির জমাতে হবে। এ কাজটা তুমি ভালো পার। কাজেই তোমার উপস্থিতি অত্যাবশ্যক। ভালো থেকো।

তোমার বন্ধু

নিবিড়

 

 

 

to:abc@gmail.com 

bcc; 

cc; 

subject: পিতৃবিয়োগে সমবেদনা,

তোমার বাবার মৃত্যুর মর্মান্তিক সংবাদ বহন করে আসা চিঠিটি পেয়ে আমি স্বজন হারানোর বেদনা অনুভব করছি একইসঙ্গে তোমার বেদনাহত মুখখানিও আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আমার মনের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অনুভব করলাম পিতৃবিয়োগের ঘটনাটি তোমার জন্যে কতখানি দুঃখের এবং বেদনার। এত তাড়াতাড়ি তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন এটা যে আমি ভাবতেও পারি নি। কিন্তু মৃত্যু কাউকে বলে কয়ে আসে না বলে চিরন্তন এ সত্যে মেনে নিতেই হয়। তাছাড়া তুমি তো জান, 'সকল প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করিতে হইবে'- এটাও চিরন্তন সত্য তাই ধৈর্য ধারণ করা ছাড়া কী-ই বা করার আছে। বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করাই প্রতিটি মানুষের জন্যে মঙ্গলজনক পরম করুণাময়ের কাছে শুধু এটাই দোয়া করছি, তুমি যেন জীবনের এই বুক-ভাঙা ঘটনার শোক কাটিয়ে উঠতে পার। বন্ধু, এই চরম বিপদের দিনে তোমাকে ভেঙে পড়লে চলবে না। একদিন সবাইকেই এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করছে হয়। জীবনের এই চরম সত্যকে উপলব্ধি করে তোমার মনোবল বৃদ্ধি কর। তুমি পরিবারের বড় ছেলে, তাই তোমার ভেঙে পড়লে চলবে না, তোমার ছোট দু ভাই-বোনের দায়িত্ব এখন তোমাকেই নিতে হবে। তোমার আব্বু যে সম্পত্তি রেখে গেছেন তা যদি সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগানো যায় তবে তোমাদের কোনো বিপদ হবে না বলেই আমার বিশ্বাস। তোমার ওপর এখন গুরুদায়িত্ব, এ-কথা স্মরণ রেখে চললে তুমি তোমার কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে পারবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তোমার আম্মুর কাছ থেকে পরামর্শ নেবে এবং তাঁর বাধ্য হয়ে থাকবে। যদিও এসব কথার প্রয়োজন নেই, কারণ তোমার মতো সৎ এবং নিষ্ঠাবান ছেলের জন্যে বিপদ বেশিক্ষণ স্থায়ী হওয়ার কথা নয়। দোয়া করি, দ্রুত তুমি তোমার দুঃখ-বেদনাকে অতিক্রম করে পড়াশোনায় মন দিতে পারবে। আমি তোমার আব্বার রুহের মাগফেরাত কামনা করি। আব্বু-আম্মুও এ ঘটনা জেনে খুবই মর্মাহত হয়েছেন।

আমাকে নিয়ে আগামী শুক্রবারেই আব্বু তোমাদের দেখতে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তুমি ভালো থেকো।

 ইতি 

ইনজামামুল

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...