ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - হিন্দু ধর্ম শিক্ষা - NCTB BOOK
Please, contribute to add content into দ্বিতীয় অধ্যায়.
Content
  • এই যে প্রতিদিন যে কাজগুলো আমরা করি সেগুলোকে বলা হয় নিত্যকর্ম। চলো হিন্দুধর্ম মতে নিত্যকর্ম বলতে আমরা কী বুঝি তা আলোচনা করি।

নিত্যকর্ম মানে প্রতিদিনের কর্ম। প্রতিদিন আমরা অনেক কর্ম করি। ঘুম থেকে উঠে রাতে শোয়ার পূর্ব পর্যন্ত চলতে থাকে কর্ম। তবে এই কর্মগুলো নিয়ম মেনে করতে হয়। এগুলো নিত্যকর্ম। নিত্যকর্ম চর্চায় নিয়মানুবর্তিতা শেখা যায়। ঈশ্বরের সাহিত্যও লাভ করা যায়।

'নিতা' অর্থ প্রত্যহ বা প্রতিদিন। কর্ম মানে কাজ। সুতরাং শাব্দিক অর্থে নিত্যকর্ম বলতে বোঝায় প্রতিদিনের কাজ। ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঈশ্বর ও গুরুর নাম স্মরণ করা। পিতামাতাকে প্রণাম করা। শুচি হয়ে পূজা ও উপাসনা করা। লেখাপড়া, খেলাধুলা, ব্যায়াম করা ইত্যাদি নিত্যকর্মের অংশ। শাস্ত্রে নিত্যকর্মসমূহকে ছয় ভাগে বর্ণনা করা হয়েছে। যথা: প্রাতঃকৃত্য, পূর্বাহ্ণকৃতা, মধ্যাহ্নকৃতা, অপরাহ্ণকৃতা, সায়াহ্নকৃতা, রাত্রিকৃতা।

 

প্রাতঃকৃত্য: সূর্য ওঠার কিছু পূর্বে বা আগে ঘুম থেকে উঠে বিছানার উপরে পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসতে হয়। এরপর ঈশ্বর বা দেব-দেবীদের স্মরণ করে মন্ত্র পাঠ করতে হয়।

পূর্বায়কৃত্য প্রাতঃকৃত্যের পরে এবং দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত যে সব কাজ করা হয় তাই পূর্বাহ্ণকৃত্য। এই সময়ে প্রার্থনা, উপাসনা ও পূজা করতে হয়।

মধ্যাহ্নকৃত্য : পূর্বাহ্ণের পরে অর্থাৎ দুপুরে খাওয়া-দাওয়া এবং বিশ্রাম করা হলো মধ্যাহ্নকৃত্য।

অপরাধকৃত্য: দুপুরের পর এবং সায়াহের পূর্ব পর্যন্ত যে কাজ করা হয়, তাকেই অপরাহকৃত্য বলা হয়। এ সময় বেড়াতে যাওয়া, খেলাধুলা বা ব্যায়াম অবশ্যই করা উচিত।

 

Content added By
  •  মন্দিরে আমরা কী দেখতে পাই? সেখানে আমরা দেব-দেবী, প্রার্থনা-উপাসনা, পূজা-অৰ্চনা এগুলো দেখি। মন্দিরের পরিবেশটা একটু অন্যরকম, তাই নয় কি? সেখানে দেখতে পাই সবাই পরিষ্কার এবং পবিত্ৰ বস্ত্ৰ পরিধান করে উপাসনা করছে। একমনে ঈশ্বরের আরাধনা করছে। আমরা দেখলাম মন্দিরে যেতে হলে পরিষ্কার এবং শুদ্ধভাবে যেতে হয়। মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে আমরা যে অভিজ্ঞতাগুলো লাভ করেছি, এবার সেগুলো সম্বন্ধে আর একটু বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব।
  • এক্ষেত্রে প্রথমেই আসে শুচিতার কথা। কোনো মন্দিরে যাওয়ার সময় প্রথমেই আমাদের মন এবং শরীরকে পরিষ্কার ও পবিত্র করে যেতে হয় যাকে আমরা শুচিতা বলে থাকি। এবার আমরা ধর্মীয় আলোকে শুচিতা কী তা জানব।

 

শুচিতা 

শুচিতা মানে নির্মলতা, পবিত্রতা। এই পবিত্রতার শুরু হয় মন থেকে। মনে শুচিতা থাকলে আমরা খারাপ চিন্তা থেকে বিরত থাকি, কারও ক্ষতি করতে চাইনা, কারও অশুভও কামনা করি না। মনে শুচিতা থাকলে আমরা আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।

শুচিতা মানে যেমন মনের পবিত্রতা, তেমন শরীরের পবিত্রতাও। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক, পরিবেশ, প্রকৃতি দেখলে অন্যের মনেও পবিত্রতার অনুভূতি আসে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাটা ঈশ্বর পছন্দ করেন। শুচিতা ধর্মের অঙ্গ। শুচিতার মাধ্যমে শরীর ও মনের পবিত্রতা আনা যায়। শরীর ও মনকে সাধনার উপযোগী করার জন্য শুচিতা প্রয়োজন। শুচিতা প্রধানত দুই প্রকার, যথা: অভ্যন্তরীণ শুচিতা ও বাহ্যিক শুচিতা।

 

অভ্যন্তরীণ শুচিতা : অভ্যন্তরীণ শুচিতা বলতে মনের বা অন্তরের শুচিতাকে বোঝায়। বিদ্যার্জন, সদাচরণ প্রভৃতির মাধ্যমে মনের বা অন্তরের শুচিতা অর্জন করা যায়। পৃথিবীর সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করা, সবার জন্য সুচিন্তা করা, মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে কথা না বলা এগুলো সবই ভালো মনের পরিচয় বা অভ্যন্তরিণ - শুচিতার প্রতিফলন।

বাহ্যিক সুচিতা বাহ্যিক শুচিতা বলতে শারীরিক শুচিতা বোঝায়। জল দিয়ে বাহ্যিকভাবে শুচি হওয়া যায়। আমরা প্রতিদিন হাত-মুখ ধুই, স্নান করি। এভাবে বাহ্যিক শুচিতা অর্জন করি। এছাড়া পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার করার মাধ্যমেও বাহ্যিক শুচিতা অর্জন করা যায়।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: শুচিতার ন্যায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও ধর্মের অঙ্গ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বলতে সুন্দর ও পরিপাটি অবস্থাকে বোঝায়। উপাসনা, প্রার্থনা, পূজা-পার্বনের সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হয়। কারণ ধর্মীয় কাজের ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন সবার আগে। অপরিষ্কার অবস্থায় ধর্মীয় কাজে মন বসে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্যে পড়ে এমন আরও অনেক কিছু আছে। যেমন, নিজের কাপড়-চোপড় গুছিয়ে রাখা, বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র পরিপাটি করে রাখা, আশপাশের পরিবেশ সুন্দর রাখা। বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর রাখা ইত্যাদি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ব্যক্তিগত হতে পারে আবার সর্বজনীনও হতে পারে।

নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে হয়। নিজের শরীরের যত্ন নিতে হয়। এগুলো ব্যক্তিগত পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা। বিদ্যালয়, মন্দির, ধর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। বাড়ির আধিনা, রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ, আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। সবার অংশগ্রহণে এই পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয়। এটাই সর্বজনীন পরিচ্ছন্নতা।

 

শুচিতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব :

শুচিতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ধর্মচর্চার পূর্বশর্ত। শুচিতা প্রার্থনার অপরিহার্য অংশ। শুচিতা ও পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতায় শরীর ও মন সুস্থ থাকে। আর শরীর ও মন সুস্থ থাকলে ধর্ম-কর্ম ভালো হয়। পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া যায়। সর্বজনীন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সর্বক্ষেত্রে সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়। মূলত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সবার মঙ্গল হয়।

  •  চলো, নিচের মিলকরণটি করি। বাম দিকের কলামের তথ্যের সাথে ডান দিকের তথ্য মিল করতে হবে। দেখো, একটি মিল করে দেওয়া আছে।

 

Content added || updated By

উপাসনা

আমরা যাকে কাছে পেতে চাই তার থেকে দূরে বসলে কি আমাদের ভালো লাগে? নিশ্চয়ই না। যাকে ভালো লাগে তার কাছে বসতে চাই। ঈশ্বরকে ভালোবেসে তাঁর কাছে আমরা বসতে চাই। ঈশ্বরের কাছে বসাই উপাসনা। ধর্মগ্রন্থে উপাসনা নিয়ে অনেক কথা আছে। সে কথাই এখন আমরা জানব।

'উপ' অর্থ নিকটে এবং 'আসন' অর্থ বসা। ঈশ্বরের উপাসনা অর্থ ঈশ্বরের নিকটে বসা। অর্থাৎ, যে কর্মের মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরকে কাছে পেতে পারি, তার নাম উপাসনা। একাগ্রচিত্তে ভক্তিভরে ঈশ্বরের আরাধনা করাই উপাসনা। উপাসনা ধর্মপালনের অন্যতম প্রধান অঙ্গ বা পদ্ধতি। পূজা-অৰ্চনা, স্তব-স্তুতি, ধ্যান, জপ, কীর্তন, প্রার্থনা প্রভৃতি পদ্ধতিতে উপাসনা করা হয়। উপাসনার ফলে আমাদের দেহ-মন পবিত্র হয়। উপাসনার মাধ্যমে আমরা সকলের কল্যাণ কামনা করি। ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রার্থনা করি।

সাকার ও নিরাকার দুভাবেই ঈশ্বরের উপাসনা করা যায়।

সাকার উপাসনা হলো নিরাকার ঈশ্বরের আকার বা মূর্ত রূপের মাধ্যমে আরাধনা করা। "সাকার' অর্থ যার আকার বা মূর্তরূপ আছে। আমরা ঈশ্বরকে নেব-দেবীর প্রতিমারূপে উপাসনা করি। বিভিন্ন দেব-দেবী, যেমন- কার্তিক, গণেশ, দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী প্রভৃতি ঈশ্বরের সাকার রূপ। পূজারী ভক্ত ঈশ্বরকে সাকাররূপে পূজা করে। তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করে।

নিরাকার মানে যার কোনো আকার বা রূপ নেই। ব্রহ্মের কোনো রূপ নেই। ব্রহ্মই ঈশ্বর। ঈশ্বরের কোনোপ্রকার প্রতীক বা মূর্তরূপ ছাড়া ধ্যানস্থ হয়ে উপাসনা করাই নিরাকার উপাসনা। ঈশ্বর নিরাকার। জগতের কল্যাণে নিরাকার ঈশ্বর সাকার রূপ ধারণ করেন। যিনি নিরাকার, তিনিই আবার সাকার। নিরাকাররূপে ঈশ্বরের উপাসনা হচ্ছে ধ্যান। সাকাররূপে ঈশ্বরের উপাসনা হচ্ছে পূজা। উপাসনা প্রতিদিন করতে হয়। তাই এটি একটি নিত্যকর্ম। উপাসনার আগে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন হওয়া আবশ্যক। একা বসে উপাসনা করা যায় আবার কয়েকজন মিলে একসাথে বসেও উপাসনা করা যায়। কয়েকজন একত্র হয়ে উপাসনা করাকে সমবেত উপাসনা বলা হয়।

 ঈশ্বরের উপাসনায় দেহ-মন পবিত্র হয়। উপাসনা আমাদেরকে সৎপথে বা ধর্মপথে পরিচালিত করে। সকলের কল্যাণ কামনায় আমরা নিয়মিত উপাসনা করব।

 

প্রার্থনা 

আমরা কেউ পরিপূর্ণ নই। প্রত্যেকেরই কিছু চাওয়া পাওয়া আছে। বড়দের কাছেও চাই আবার ছোটদের কাছেও চাই। তবে কেবল অভাবের জন্যই আমরা চাই না। ভালো থাকার জন্যও চাই। নিজের এবং সকলের মঙ্গলের জন্যও চাই। এই চাওয়ার একটা অর্থ প্রার্থনা। এখন আমরা প্রার্থনা সম্পর্কে জানব।

ঈশ্বর সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা। তিনি দয়াময়। করুণাময়। তাঁর ইচ্ছার উপরেই আমাদের সবকিছু নির্ভর করে। আমরা তাঁর কাছেই সবকিছু চাই। ঈশ্বরের কাছে ভক্তিমনে কিছু চাওয়াই হচ্ছে প্রার্থনা। উপাসনার একটি অঙ্গ হলো প্রার্থনা। প্রার্থনা করার আগে নিজেকে শুচি করতে হয়। পবিত্র হতে হয়। মনে বিনয়ীভাব থাকতে হয়। একা বা সমবেতভাবেও প্রার্থনা করা যায়। আমরা নিজের ও সকলের কল্যাণ কামনা করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে থাকি।

 

স্তব-স্তুতি ও

 প্রার্থনামূলক কবিতা

হিন্দুধর্মের অনেক ধর্মগ্রন্থ রয়েছে। এর মধ্যে বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত, শ্ৰীমদ্ভগবদ্গীতা শ্রীশ্রীচণ্ডী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এসব ধর্মগ্রন্থে ঈশ্বরের স্তব ও প্রার্থনামূলক অনেক মন্ত্র ও শ্লোক রয়েছে। সেখানে ঈশ্বর ও দেব-দেবীর রূপ, গুণ, মাহাত্ম্য প্রভৃতি বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রজনীকান্ত সেন, অতুলপ্রসাদ সহ মহান ব্যক্তিদের রচিত বাংলা ভাষায় অনেক প্রার্থনামূলক কবিতা রয়েছে। এসব মন্ত্র, শ্লোক, প্রার্থনামূলক কবিতা চৰ্চা করলে মন পবিত্র হয়। মনে ঈশ্বরের উপলব্ধি অনুভূত হয়।

আমরা এখন ধর্মগ্রন্থাবলি থেকে সরলার্থসহ কিছু মন্ত্র ও শ্লোক এবং প্রার্থনামূলক বাংলা কবিতা শিখব।

  • উপনিষদ

অসতো মা সাময়

তমসো মা জ্যোতির্গময়। 

মৃত্যোর্মা অমৃতং গময়।

(বৃহদারণ্যক উপনিষদ)

শব্দার্থ : অসতো (অসতঃ) অসৎ থেকে সদাময় (সংগময়)- সত্যে নিয়ে যাও; তমসো (তমসঃ)- অন্ধকার থেকে: জ্যোতির্গময় (জ্যোতিঃ + গময়) - জ্যোতিতে অর্থাৎ আলোতে নিয়ে যাও; মৃত্যোর্মা (মৃত্যোঃ+মা); মৃত্যোঃ- মৃত্যু থেকে; মা, আমাকে অমৃতং-অমৃতে, গময়-নিয়ে যাও। 

সরলার্থ : আমাকে অসত্য থেকে সত্যে নিয়ে যাও, অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে যাও, মৃত্যু থেকে অমৃতে নিয়ে যাও।

  •  শ্ৰীমদ্ভগবদ্গীতা

নহি আনেন সদৃশং পৰিত্ৰমিহ বিদ্যতে 

তৎ স্বয়ং যোগসংসিদ্ধঃ কালেনাত্মনি বিদতি ।।

(শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা-৪/৩৮)

শব্দার্থ :- ন নাই; হি - অবশ্যই; আনেন জ্ঞানের; সদৃশম্ সমান/তুল্য: পবিত্রম্ পবিত্ৰ ইহু এই জগতে; বিদ্যুতে বিদ্যমান তৎ তা স্বরম্ নিজে যোগসংসিক যোগ সিদ্ধগণ; কালেন - কালক্রমে/যথাসময়ে আত্মনি আত্মাতে; বিন্দতি - অনুভব করেন।

সরলার্থ এই জগতে জ্ঞানের তুলা পবিত্র আর কিছুই নেই। যোগসিগণ যথাসময়ে সে জ্ঞানকে নিজ আত্মাতে অনুভব করেন।

  • শ্রীশ্রীচণ্ডী

সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে

 শরণ্যে ত্রাম্বকে গৌরি নারায়নি নমোহস্তু তে। (১১/১)

শব্দার্থ: সর্বমঙ্গলমঙ্গলো সকল মঙ্গলের মঙ্গল স্বরূপা; শিবে কল্যাণদায়িনী; সর্বার্থসাধিকে (সর্ব+ অর্থসাধিকে) সকল প্রকার সিন্ধি সুফল) প্রদায়িনী; শরণ্যে আশ্রয়স্বরূপা; গ্রাসকে - গ্রিনয়না: গৌরি - গৌরবর্ণা: নমোহস্তু তেঅনমোঃ+অন্তু তে) - তোমাকে নমস্কার।

দ্রষ্টব্য: স্ত্রীলিঙ্গে অর্থা)-কারান্ত শব্দের সম্বোধনের একবচনে এ(0-কার এবং নী)-কারান্ত শব্দের সম্বোধনের একবচনে ই-কার হয়। 

সরলার্থ: হে নারায়ণী, গৌরী, তুমি সকল মঙ্গলের মঙ্গল স্বরূপা, কল্যাণদায়িনী, সকল প্রকার সুফল প্রদায়িনী, আশ্রয় স্বরূপা, ত্রিনয়না তোমাকে নমস্কার।

  • প্রার্থনামূলক বাংলা কবিতা

অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে-

 নির্মল করো, উজ্জ্বল করো, সুন্দর করো হে। 

জাগ্রত করো, উদ্যত করো, নির্ভয় করো হে। 

মঙ্গল করো, নিরলস নিঃসংশয় করো হে।

 যুক্ত করো হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করো হে বন্ধ ।

 সঞ্চার করো সকল কর্মে শান্ত তোমার ছন্দ। 

চরণপদ্মে মম চিত নিস্পন্দিত করো হে। 

নন্দিত করো, নন্দিত করো, নন্দিত করো হে।

(গীতাঞ্জলি)