তড়িৎ প্রবাহ

- সাধারণ বিজ্ঞান - ভৌতবিজ্ঞান | NCTB BOOK
3.5k

তড়িৎ পরিবাহিতা (Electric Conductance)

তড়িৎ পরিবাহী ধর্মের উপর ভিত্তি করে পদার্থসমূহ ৩ প্রকার। যথা:

১) পরিবাহক (Conductor)

২) অন্তরক (Insulator)

৩) অর্ধপরিবাহী (Semiconductor)

পরিবাহক (Conductor)

যেসব বস্তুর ভিতর তড়িৎ আধান সহজে চলাচল করতে পারে, তাদের বলা হয় পরিবাহক। সকল ধাতু, মানবদেহ, আর্দ্র বায়ু, পানি, মাটি প্রভৃতি বিদ্যুৎ পরিবহন করে। গ্রাফাইট অধাতু হলেও তড়িৎ পরিবাহী। রূপা সর্বোত্তম তড়িৎ পরিবাহক। আর্দ্র বায়ু বা মেঘযুক্ত তড়িৎ পরিবাহী বলে এর মধ্যে দিয়ে বিমান চালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্তরক বা অপরিবাহক (Insulator)

যেসব বস্তুর ভিতর দিয়ে তড়িৎ আধান চলাচল করতে বা পরিবাহিত হতে পারে না তাদের বলা হয় অন্তরক। অধাতু, প্লাস্টিক, কাঠ, কাঁচ, রাবার, চীনামাটি, রেশম, শুষ্ক বাতাস প্রভৃতি অন্তরক পদার্থ।

অর্ধপরিবাহী (Semiconductor)

যেসব পদার্থের তড়িৎ পরিবাহীতা পরিবাহী পদার্থের চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অন্তরক পদার্থের চেয়ে অনেক বেশী, তাদের অর্ধপরিবাহী, (Semiconductor) বলে। যেমন: সিলিকন (Silicon), জার্মেনিয়াম (Germenium) ক্যাডমিয়াম সালফাইড, গ্যালিয়াম আর্সেনাইড প্রভৃতি।

বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রপাত (Shining Power & Lightning)

বাতাসে রয়েছে পানির কণা, ধূলিকণা এবং বিভিন্ন রকম গ্যাসের কণা। এইসব কণার মধ্যে ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন হয় স্থির বিদ্যুৎ অর্থাৎ কণাগুলো চার্জিত হয়। এরূপ কোটি কোটি চার্জিত পানি কণা মিলে সৃষ্টি হয় মেঘ। এই মেঘ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক চার্জে চার্জিত হতে পারে। ধনাত্মক চার্জযুক্ত মেঘ এবং ঋণাত্মক চার্জযুক্ত মেঘের মধ্যে আকর্ষণের ফলে পরস্পরের সাথে প্রবল বেগে ঘর্ষণ হয় এবং এই সাথে তাপ, আলো এবং শব্দের সৃষ্টি হয়। আলোর বেগ শব্দের বেগের চাইতে বহুগুণ বেশি বলে আমরা আলো আগে দেখি এবং শব্দ পরে শুনি। এই আলোর ঝমকানিকে বিদ্যুৎ চমকানো বলে। অনেক সময় তীব্র চার্জযুক্ত মেঘ পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে। তখন বিদ্যুৎক্ষরণ ঘটে বায়ুমণ্ডলকে ভেদ করে মেঘ এবং মাটির মধ্যে। একে বলা হয় বজ্রপাত। বজ্রপাতের সময় যে শব্দ শোনা যায়, তাকে বলে বজ্রনাদ। মাটির উপর যে জিনিস যত উঁচু সেই জিনিস মেঘের তত কাছাকাছি থাকে। তাই বজ্রপাত সাধারণত হয় উঁচু দালান বা গাছের মাথায়। এমনকি মাঠের মধ্যে দাড়িয়ে থাকা কোনো মানুষের মাথায়ও বজ্রপাত হতে পারে। ঝড়বৃষ্টির সময় তাই গাছের নিচে বা খোলা স্থানে দাড়িয়ে থাকা নিরাপদ নয়। বজ্রপাতের সময় থাকা উচিত গুহার ভিতর বা মাটিতে শুয়ে।

বজ্রপাত থেকে বাঁচার কয়েকটি উপায় হলো:

১. দালান বা পাকা ভবনের নিচে আশ্রয় নেওয়া।

২. উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন বা খুঁটি থেকে দূরে থাকা।

৩. বজ্রপাতের সময় গাড়ীর ভিতরে থাকলে সম্ভব হলে গাড়ীটিকে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া। গাড়ীর ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন; এমনকি গাড়ীর কাঁচেও হাত দিবেন না।

৪. বজ্রপাতের সময় খোলা ও উঁচু জায়গা হতে সাবধান। ধানক্ষেত বা বড় মাঠে থাকলে তাড়াতাড়ি নিচু হয়ে যাওয়া উচিত।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কোন বল অনুভব করে না
পরষ্পর আকর্ষণ অনুভব করবে
পরস্পর বিকর্ষণ অনুভতর করবে
কোনটিই নয়

নিউরন

নেফ্রন

পেসমেকার

হেপাটোসাইট

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...